Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

কখন বুঝবেন হাম হয়েছে, হলে কী করবেন?

কখন বুঝবেন হাম হয়েছে, হলে কী করবেন?

শুভ সকাল

হামের প্রাদুর্ভাব

কখন বুঝবেন হাম হয়েছে, হলে কী করবেন?

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে আলোচিত রোগটির নাম হাম। প্রতিদিন হাম বা হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুর মৃত্যু মা-বাবাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। তাই আসুন জেনে নিই হাম কী, কখন বুঝব হাম হয়েছে। জানাচ্ছেন মেডিসিন(প্রিভেন্টিভ) ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিম আহমেদ রুপম।

অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত একটি রোগ—হাম। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো হঠাৎ করে তীব্র জ্বর— অনেক সময় তা ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছায়। সঙ্গে থাকে সর্দি-কাশি, লালচে ও পানিভরা চোখ এবং ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লাল ফুসকুড়ি। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। শুরুটা হয় মুখ ও কানের পেছন থেকে, এরপর তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দিন স্থায়ী হয়।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে শিশুদের জ্বর ও র‌্যাশ নিয়ে অভিভাবকদের ভিড় বাড়ছে। পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, এদের অনেকেই হামে আক্রান্ত। হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসন— সবার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হামের প্রকৃতি, সংক্রমণের ধরন এবং করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

হামের কারণ ‘মিজেলস’ নামের অত্যন্ত সংক্রামক এক ভাইরাস। এই রোগে প্রথমে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। জ্বর শুরুর প্রায় চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।

এই ভাইরাস শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং সাময়িকভাবে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে আক্রান্ত শিশু সহজেই অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর সংক্রমণে ভুগতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দেখা দেয়, যা চোখের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রাতকানা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্বের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুতই আশপাশের সুস্থ শিশুর মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রাদুর্ভাবে রূপ নিতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া, বারবার বমি, কানে ব্যথা কিংবা চোখ বা মস্তিষ্কসংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

যে কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে র‌্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। র‌্যাশ দেখা দেওয়ার পর অন্তত পাঁচ দিন শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন, যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। এ সময় শিশুর স্বাভাবিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং যত্ন অব্যাহত রাখতে হবে।

তবে কিছু বিপদসংকেতের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে— যেমন শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন বমি, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, চোখের মণি ঘোলা হয়ে যাওয়া বা মুখের ভেতরে গভীর ঘা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— হঠাৎ তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও পানি পড়া, আলোতে অস্বস্তি, র্যাশ ওঠার আগে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কোপলিক স্পট) এবং কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লালচে ফুসকুড়ি। পাশাপাশি শরীর ব্যথা, ক্ষুধামন্দা ও ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

Logo