সুস্থ থাকতে ঘরকে করে তুলুন স্বাস্থ্য উপযোগী
সুস্থ থাকতে ঘরকে করে তুলুন স্বাস্থ্য উপযোগী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
শুধু শরীরের যত্ন নিলেই হবে না, সুস্থ থাকতে হলে ঘরকেও রাখতে হবে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত। ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে নানা ধরনের রোগ-জীবাণু । আর দিনের সবচেয়ে স্বস্তির সময়টুকু যেহেতু কাটে নিজের ঘরে, তাই সেটিকে আরামদায়ক ও নিরাপদ রাখা জরুরি। আজ ঘর স্বাস্থ্যকর রাখার কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো—
সঠিক ভঙ্গিতে টিভি দেখুন
দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে বা জবুথবু হয়ে টিভি দেখলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে, যা পরবর্তীতে পিঠব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বসার সময় পিঠের নিচে ছোট বালিশ ব্যবহার করুন কিংবা পা ছড়িয়ে আরাম করে বসার ব্যবস্থা রাখুন।
ঘরে রাখুন প্রশান্তির ছোঁয়া
নিজের ঘর এমন হওয়া উচিত, যেখানে প্রবেশ করলেই মন ভালো হয়ে যায়। পছন্দের ছবি, ভ্রমণ থেকে আনা স্মারক কিংবা হাতের তৈরি শৌখিন জিনিস দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন। এতে ঘরের পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে। কিছু ইনডোর প্লান্টও রাখতে পারেন।
পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন
অতিরিক্ত আলো যেমন চোখ ও মাথার জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কম আলোও কাজের অসুবিধা সৃষ্টি করে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ঢোকার সুযোগ রাখাও জরুরি।
কার্পেট পরিষ্কার রাখুন
কার্পেট ঘরের সৌন্দর্য বাড়ালেও এতে সহজেই ধুলো, জীবাণু ও পোকামাকড় জমে। তাই নিয়মিত ঝাড়ু ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বিন ব্যাগ ও ইজিচেয়ার সতর্কতা
দেখতে আরামদায়ক হলেও দীর্ঘ সময় বিন ব্যাগ বা নরম ইজি চেয়ারে বসে থাকলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই বিরতি দিয়ে ব্যবহার করাই ভালো।
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সচেতনতা
এসি ব্যবহার করা ঘরে নিয়মিত প্রাকৃতিক বাতাস প্রবেশের সুযোগ রাখা দরকার। এতে ঘরের আর্দ্রতা ও বাতাসের স্বাভাবিকতা বজায় থাকে।
বিছানায় ইলেকট্রনিক যন্ত্র নয়
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র বিছানায় ব্যবহার না করাই ভালো। এগুলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং মানসিক চাপও বাড়াতে পারে।
বাথরুম শুকনা রাখুন
বাথরুমে দ্রুত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়, যা জীবাণু বৃদ্ধির জন্য অনুকূল। তাই নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্যবহারের পর পানি মুছে শুকনা রাখা উচিত। প্রয়োজনে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন।
পিছলে পড়ার ঝুঁকি কমান
বাথরুমে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ঝুঁকি এড়াতে বাথরুমের বাইরে রাবারের ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ওষুধ রাখুন সঠিক জায়গায়
যেখানে সেখানে ওষুধ রাখা যাবে না। কারণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই ওষুধ সব সময় শুষ্ক জায়গায় রাখুন।
রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখুন
রান্নাঘরের কাটাকাটি, ধোয়া-মোছা ও খাবার সংরক্ষণের স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ এসব জায়গায় খুব দ্রুত জীবাণু জন্মাতে পারে।
রান্নাঘর শুকনা রাখুন
রান্নার কাজ শেষে মেঝে মুছে শুকনা রাখুন। এতে পিছলে পড়ার ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি রান্নাঘরও থাকবে স্বাস্থ্যকর। এছাড়া, গরম হাঁড়ি-পাতিল ধরার জন্য ব্যবহার করা কাপড় নিয়মিত পরিস্কার করুন। এতে রোগজীবাণু ছড়ানো আশঙ্কা কমবে।
মন্তব্য করুন

