Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

শিশুকিশোরদের মানসিক নিঃসঙ্গতা ও পরিবারের আচরণ

বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার এখন মহামারী আকার লাভ করেছে

মত-দ্বিমত

শিশুকিশোরদের মানসিক নিঃসঙ্গতা ও পরিবারের আচরণ

দীপু মাহমুদ

Icon

দীপু মাহমুদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৩২ এএম

গত ২০ মে কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে আসে। একই ঘটনায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার একদিন পর, ২১ মে, কুমিল্লার দেবীদ্বারে ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’ নামে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে এপ্রিল মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং নেতাকে হত্যার ঘটনায় একাধিক গ্রেপ্তারের খবর আসে। ফেব্রুয়ারিতে আশুলিয়ায় অভিযানে আটক করা হয় ১৪ জন কথিত কিশোর গ্যাং সদস্যকে।
এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরদের ভেতরে তৈরি হওয়া এক গভীর সামাজিক ও মানসিক সংকটের লক্ষণ।

আমরা সাধারণত এসব ঘটনার পর খুব দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাই। বলি, “আজকালকার বাচ্চারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে”, “মোবাইল ফোন সব নষ্ট করে দিয়েছে”, “এ প্রজন্ম খুব সহিংস”, “আগের মতো শাসন নেই বলেই এসব হচ্ছে”। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই আমরা আরেকটি প্রশ্ন করি- শিশুরা আসলে কী সংকেত দিচ্ছে?
কারণ শিশুদের সব সংকট ভাষায় প্রকাশ পায় না। অনেক সময় তা প্রকাশ পায় আচরণে। অস্বাভাবিক রাগে, অতিরিক্ত স্ক্রিনে ডুবে থাকায়, হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়ায়, সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ায় কিংবা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ায়।

বাংলাদেশে parenting নিয়ে আলোচনা এখনো মূলত খাবার, পড়াশোনা, শাসন আর “মানুষ করা”র প্রচলিত ধারণার ভেতর সীমাবদ্ধ। অথচ বাস্তবতা দ্রুত বদলে গেছে। আজকের শিশু এমন এক পৃথিবীতে বড় হচ্ছে, যেখানে একই সঙ্গে কাজ করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ, সাইবার বুলিং, অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা, একাডেমিক প্রতিযোগিতা, পারিবারিক দূরত্ব এবং মানসিক নিঃসঙ্গতা।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবারগুলোর প্রস্তুতি তৈরি হয়নি।

একসময় শিশুদের বড় হওয়ার ভেতরে বাস্তব সামাজিক যোগাযোগ বেশি ছিল। পরিবারে একসঙ্গে সময় কাটানো ছিল, খেলাধুলার মাঠ ছিল, অবসর ছিল, গল্প ছিল। এখন অনেক শিশু ছোট ফ্ল্যাটে বড় হচ্ছে। বাবা-মা দুজনই ব্যস্ত, শিশুর অবসর স্ক্রিননির্ভর, আর পারিবারিক কথোপকথনের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে।
অনেক পরিবারে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ এখন কয়েকটি নির্দেশনামূলক বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ- “পড়তে বসো”, “ফোনটা নামাও”, “রেজাল্ট খারাপ হলে সমস্যা হবে”, “সময় নষ্ট করো না”। কিন্তু একজন শিশু কী অনুভব করছে, সে কোনো চাপের মধ্যে আছে কিনা, স্কুলে অপমানিত হচ্ছে কিনা, বন্ধুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন, সে মানসিকভাবে নিরাপদ অনুভব করছে কিনা- এসব নিয়ে নিয়মিত কথা বলার সংস্কৃতি খুব কম পরিবারেই আছে।
সবচেয়ে বড় সংকট হলো, বাংলাদেশে এখন অনেক পরিবারে “সময়” আছে, কিন্তু “মনোযোগ” নেই। বাবা-মা সন্তানের জন্য দামি ফোন কিনছেন, কোচিংয়ে ভর্তি করাচ্ছেন, ভালো স্কুলে পড়াচ্ছেন; কিন্তু অনেক শিশু নিয়মিত মন খুলে কথা বলার মানুষ পাচ্ছে না। ফলে শিশুরা ধীরে ধীরে নিজেদের ভেতরে গুটিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশের বহু পরিবারে এখন শিশুর কান্না, রাগ, হতাশা বা একাকিত্বকে “আচরণগত সমস্যা” হিসেবে দেখা হয়; “মানসিক সংকেত” হিসেবে নয়।
যে শিশু খুব রেগে যাচ্ছে, সে হয়তো দীর্ঘদিন ধরে নিজের কথা কাউকে বোঝাতে পারছে না। যে শিশু সারাক্ষণ গেম খেলছে, সে হয়তো বাস্তব জীবন থেকে পালানোর জায়গা খুঁজছে। যে শিশু মিথ্যা বলছে, সে হয়তো সত্য বললে অপমানিত হওয়ার ভয় পাচ্ছে। যে শিশু অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে গেছে, সে হয়তো ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে।
অথচ আমরা আচরণ দেখি, কারণ দেখি না।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা বোঝা যাবে না। কৈশোর এমন একটি সময়, যখন একজন মানুষের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা, পরিচয় এবং গুরুত্ব পাওয়ার তীব্র চাহিদা তৈরি হয়। পরিবার, স্কুল বা সমাজে যে শিশু বারবার নিজেকে অদৃশ্য, অযোগ্য বা অবহেলিত মনে করে, সে অনেক সময় বিকল্প পরিচয়ের জায়গা খুঁজতে শুরু করে। কিশোর গ্যাং সেই জায়গাটি তৈরি করে দেয়। সেখানে সে অন্তত “একটি দলের অংশ”, “কারও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ” হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই কিশোর গ্যাং একটি “বিকল্প পরিবার” হিসেবে কাজ করে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে আবেগগত সংযোগ হারাচ্ছে, সেখানে গ্যাং সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে। সেখানে একজন কিশোর অন্তত অনুভব করে- কেউ তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, কেউ তাকে নিজেদের একজন ভাবছে।
এ কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারে শান্ত ও চুপচাপ একজন কিশোর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করছে। কারণ সে এমন একটি জায়গা খুঁজছে, যেখানে তাকে শোনা হবে, গ্রহণ করা হবে, দৃশ্যমান মনে হবে।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের বিষয়টিও একইভাবে দেখার প্রয়োজন আছে। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই মোবাইল ফোন নিয়ে সংঘাত হচ্ছে। বাবা-মায়েরা অভিযোগ করেন, শিশু সারাক্ষণ ফোনে ডুবে থাকে। কিন্তু খুব কম পরিবার নিজেকে প্রশ্ন করে- স্ক্রিনের বাইরে আমরা শিশুদের জন্য কী পরিবেশ তৈরি করেছি?
যে শিশু বাস্তব জীবনে আনন্দ, মনোযোগ, নিরাপত্তা বা মানসিক সংযোগ পায় না, সে স্বাভাবিকভাবেই ভার্চুয়াল জগতের দিকে বেশি ঝুঁকবে। সেখানে তাকে কেউ থামাচ্ছে না, তুলনা করছে না, বকা দিচ্ছে না। বাস্তব জীবনে যে স্বীকৃতি সে পায় না, অনেক সময় সেটি সে খুঁজে পায় অনলাইন গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ভার্চুয়াল বন্ধুত্বে।
এখানে আরও একটি বাস্তবতা আছে। বাংলাদেশের বহু পরিবারে এখন বাবা-মা নিজেরাও সারাক্ষণ স্ক্রিনে ব্যস্ত। খাবার টেবিলে, বেড়াতে গিয়ে, এমনকি সন্তান কথা বলার সময়ও অনেক বড় মানুষ ফোন স্ক্রল করছেন। ফলে একজন শিশুর কাছে “স্ক্রিন কম ব্যবহার করো” কথাটি প্রায়ই উপদেশ হিসেবে শোনায়, বাস্তবতা হিসেবে নয়।
শিশুরা আমাদের কথা কম শোনে, আমাদের জীবন বেশি দেখে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা শিশুদের ঘুম, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্ক্রিন আসক্তির সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বহু পরিবারে সমস্যার সমাধান বলতে এখনো বোঝানো হয়- হঠাৎ ফোন কেড়ে নেওয়া, অপমান করা, ভয় দেখানো বা মারধর। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কারণ একজন শিশু যদি পরিবারকে “নিরাপদ জায়গা” হিসেবে অনুভব না করে, তাহলে সে নিজের জগৎ আরও গোপন করে ফেলবে।

পরীক্ষার চাপ এখন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি। বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারে এখনো সন্তানের মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হলো তার ফলাফল। সে কত নম্বর পেল, কোন স্কুলে ভর্তি হলো, জিপিএ কত- এসব প্রশ্নের ভেতরেই যেন তার পুরো পরিচয় আটকে যায়।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি শুধু পরীক্ষার চাপে সীমাবদ্ধ নেই। আজকের শিশুরা সারাক্ষণ “পারফর্ম” করার চাপে আছে। ভালো রেজাল্ট করতে হবে, আত্মীয়দের সন্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে, সুন্দর দেখতে হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হতে হবে, সব জায়গায় “সেরা” হতে হবে।
আগে একজন শিশু হয়তো শুধু ক্লাসের কয়েকজনের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করত। এখন সে প্রতিদিন হাজার মানুষের সাজানো জীবন দেখছে। ফলে খুব অল্প বয়সেই অনেক শিশু নিজের জীবনকে “কম”, “ব্যর্থ” বা “অপর্যাপ্ত” মনে করতে শুরু করছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৩১০। বিভিন্ন ঘটনায় পারিবারিক চাপ, একাডেমিক উদ্বেগ, সম্পর্কের সংকট এবং মানসিক অস্থিরতার বিষয় উঠে এসেছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক শিশু ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করে- “আমি সফল হলে আমাকে ভালোবাসা হবে, ব্যর্থ হলে আমি হতাশার কারণ।”
এই মানসিকতা ভয়াবহ চাপ তৈরি করে। কারণ তখন একজন শিশুর আত্মসম্মান পুরোপুরি ফলাফলের ওপর দাঁড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশে এখনো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। একজন শিশু মন খারাপ করলে আমরা বলি, “এই বয়সে আবার কিসের টেনশন?” সে চুপচাপ হয়ে গেলে বলি, “বেশি নাটক করছে।” রেগে গেলে বলি, “অসভ্য হয়ে গেছে।”
আমরা শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখানোর বদলে অনেক সময় শুধু আবেগ চেপে রাখতে শেখাই। ছেলেদের বলা হয়, “ছেলেরা কাঁদে না।” মেয়েদের বলা হয়, “এত রাগ দেখাতে নেই।” ফলে তারা আবেগ প্রকাশের স্বাস্থ্যকর ভাষা শেখে না। পরে সেই জমে থাকা চাপ কখনো সহিংসতা হয়ে বের হয়, কখনো আত্মঘাতী প্রবণতা হয়ে, কখনো সম্পূর্ণ নীরবতা হয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organization এবং UNICEF বহুদিন ধরেই বলে আসছে, শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য নিরাপদ, সহানুভূতিশীল এবং সম্মানজনক পারিবারিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব শিশু নিয়মিত অপমান, ভয়ভীতি বা সহিংস আচরণের মধ্যে বড় হয়, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং আক্রমণাত্মক আচরণের ঝুঁকি বাড়ে।
এ কারণেই এখন সচেতন parenting নিয়ে নতুন করে আলোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে। এর মূল কথা খুব সহজ- শিশুকে শুধু নিয়ন্ত্রণের বস্তু হিসেবে না দেখে, একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখা।
এর অর্থ এই নয় যে শিশু যা চাইবে তাই করতে দিতে হবে। বরং নিয়ম থাকবে, সীমারেখা থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। কিন্তু অপমান, ভয়ভীতি বা প্রতিশোধমূলক আচরণ থাকবে না।

পরিবারের করণীয় এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু পড়াশোনা বা রেজাল্ট নিয়ে নয়; তার দিন কেমন গেল, কোনো কিছু তাকে কষ্ট দিচ্ছে কি না, সে কী ভাবছে- এসব নিয়েও কথা বলতে হবে। অনেক সময় একজন শিশু সমস্যার সমাধান চায় না; শুধু চায় কেউ মন দিয়ে তার কথা শুনুক।
দ্বিতীয়ত, স্ক্রিন ব্যবহারে বাস্তবসম্মত সীমারেখা তৈরি করতে হবে। হঠাৎ ফোন কেড়ে নেওয়া নয়, বরং পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম তৈরি করা দরকার। যেমন- খাবার টেবিলে ফোন নয়, ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট সময়ের পর স্ক্রিন বন্ধ, সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় পরিবারের সঙ্গে অফলাইন সময় কাটানো। শিশু তখনই নিয়ম মানতে শেখে, যখন সে দেখে বড়রাও সেই নিয়ম মেনে চলছে।
তৃতীয়ত, শিশুদের শুধু ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করা বন্ধ করতে হবে। একজন শিশু ব্যর্থ হতে পারে, ভুল করতে পারে, পিছিয়ে পড়তে পারে—এগুলো জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার সংকেত নয়। পরিবার যদি প্রতিটি ভুলকে অপমানের কারণ বানায়, তাহলে শিশু ধীরে ধীরে সত্য বলা, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা এবং সাহায্য চাওয়া বন্ধ করে দেয়।
চতুর্থত, তুলনা কমাতে হবে। “ওর ছেলে এত ভালো”, “তোমার বন্ধু তোমার চেয়ে এগিয়ে”- এ ধরনের কথাগুলো অনেক সময় শিশুদের আত্মসম্মানে গভীর আঘাত তৈরি করে। প্রতিটি শিশুর মানসিক গঠন, আগ্রহ এবং সক্ষমতা আলাদা- এই বিষয়টি পরিবারকে বুঝতে হবে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবারকে শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা হতে হবে। এমন একটি জায়গা, যেখানে একজন শিশু ভুল করলেও অপমানিত হওয়ার ভয় পাবে না; মন খারাপ হলে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে হবে না; ব্যর্থ হলেও মনে করবে না যে সে ভালোবাসার অযোগ্য হয়ে গেছে।
কারণ আমরা যদি শিশুদের শুধু ভবিষ্যতের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা জিপিএ হিসেবে দেখি, তাহলে খুব ধীরে ধীরে তাদের ভেতরের মানুষকে হারিয়ে ফেলব।
আর সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষদের এক অংশ আশ্রয় নেবে স্ক্রিনে, এক অংশ সহিংস গোষ্ঠীতে, আর এক অংশ নীরবে ভেঙে পড়বে- কোনো সংবাদ শিরোনাম হওয়ার আগেই।

মন্তব্য করুন

Logo