Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ পাবে কী কোনো নারী মহাসচিব?

খোঁজ-খবর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ পাবে কী কোনো নারী মহাসচিব?

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০২ এএম

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কি জাতিসংঘ পেতে যাচ্ছে কোনো নারী মহাসচিব। হোক বা না হোক এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে যে পাঁচজনের নাম আলোচনায় এসেছে তার তিনজনই নারী ।

দীর্ঘ এক দশক পর নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতিসংঘ। বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে ২০২৭ সালের শুরুতেই বিশ্ব সংস্থাটির নেতৃত্বে আসবেন নতুন কেউ। আর ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় ৮০ বছরে জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছেন মোট ৯ জন, কিন্তু তাদের সবাই ছিলেন পুরুষ। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন নারী নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আলোচিত প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেল, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গিনস্প্যান, আর্জেন্টিনার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি স্যাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ মারিয়া ফার্নান্দা।

জাতিসংঘ সনদের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহাসচিব নিয়োগ দেয় সাধারণ পরিষদ। তবে তার আগে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে। বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের। এদের যেকোনো একটি দেশ আপত্তি জানালেই কোনো প্রার্থীর পথ আটকে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবার লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ অনানুষ্ঠানিক আঞ্চলিক রোটেশন নীতিতে এবার লাতিন অঞ্চলের পালা বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী প্রার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনও বাড়ছে।

তবে শুধু লিঙ্গ নয়, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটও নতুন মহাসচিব নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি, জলবায়ু সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নতুন নেতৃত্বকে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

এখন- অনেকের চোখ এখন ২০২৬ সালের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে। কারণ এটি শুধু একজন নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়ার বিষয় নয়, বরং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের চরিত্র নির্ধারণেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।


মন্তব্য করুন

Logo