Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

হামে যাচ্ছে শিশুর প্রাণ

হামে যাচ্ছে শিশুর প্রাণ

কাভার স্টোরি

হামে যাচ্ছে শিশুর প্রাণ

মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র

Icon

পার্থ শাহরিয়ার

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ছেলে ফাইয়াজ হাসান তাজিমকে নিয়ে গত মার্চে লড়াই শুরু করেছিলেন মা ফারজানা ইসলাম। প্রথমে নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা শুরু হয়, তারপর হাম। চাঁদপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। ৮ মাস ১৮ দিন বয়সী তাজিম হামে মারা গেছে গত ২২ এপ্রিল।

বিয়ের ১১ বছর পর ফারজানা ইসলাম প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। তাজিমের নামে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। 

ফারজানা ইসলাম-হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির এই সন্তানের জন্ম হয়েছিল টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ পদ্ধতিতে। সন্তানের জন্মের পর তাজিমকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল নিঃশেষে।

এমন স্বপ্নভঙ্গের, সন্তান হারানোর বেদনার ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। গত ৯ মে পর্যন্ত ৩৫২টি শিশু হাম বা হামের উপসর্গে মারা গেছে। ‘মারা যাওয়া’ শব্দগুচ্ছকে এখন অনেকে মানতে নারাজ। অনেকের কাছে এগুলো হলো কাঠামোগত হত্যা। এই হত্যার বীজ বপন হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারে সময়। হামের টিকা নিয়ে নিদারুন অবহেলা করে সরকার। এখন অবশ্য সেই সরকারের সুবিধাভোগীরা এর পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসব এখন তুচ্ছ সেইসব বাবা-মায়ের কাছে যাদের সন্তানেরা হাম নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। কিংবা লড়াই করতে গিয়ে এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে মানুষের নিষ্ঠুরতার বলি হয়ে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর রেকর্ড নেই। টিকায় ঘাটতি, হাসপাতালের চাপ, ভুল বার্তা আর দেরিতে নড়েচড়ে বসা—সব মিলিয়ে সামনে এসেছে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা।

চার বছরের আকিরা হায়দার আরশির গল্পটি শুধু এক শিশুর মৃত্যু নয়, এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক নির্মম আয়না। হালকা জ্বর–কাশি দিয়ে শুরু হয়েছিল অসুস্থতা। পরিবার ভেবেছিল, ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সমস্যা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে সেই জ্বর নিউমোনিয়ায় গড়ায়, পরে ধরা পড়ে হাম। তারপর শুরু হয় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়ানো—কোথাও অক্সিজেন নেই, কোথাও পিআইসিইউ নেই, কোথাও চিকিৎসকস্বল্পতা। সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, শরীরে র‍্যাশ উঠছে, মুখে ঘা, চোখ লাল, ফুসফুসে পানি—আর বাবা–মা অসহায়ের মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা খুঁজছেন। 

২৭ দিন ধরে লড়াইয়ের পর ২ এপ্রিল রাতে আকিরাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু তার আগে শিশুটির শেষ অনুরোধ ছিল বাবার কাছে—“বাবা আমাকে বুকে নাও, আমাকে পানি দাও।” লাইফ সাপোর্টে থাকা মেয়েকে বুকে নিতে পারেননি বাবা, পানি দিতেও পারেননি। এখন সেই না-পারা মুহূর্তই তাঁর সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। ঈদের জন্য কেনা জামাটি খোলা হয়নি, স্কুলে ভর্তির জন্য কেনা ব্যাগটি ব্যবহার হয়নি, হাসপাতালে বসে চাওয়া খেলনাগুলো পড়ে আছে ঘরে। একটি পরিবারের পৃথিবী থেমে গেছে। 

এই গল্পের সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো, আকিরাকে অন্য টিকা দেওয়া হলেও হামের টিকা (এমআর ভ্যাকসিন) বাদ পড়ে গিয়েছিল। বাবা এখন নিজেই বলছেন, এটি তাঁদের বড় ভুল। হয়তো সেই একটি টিকা থাকলে মেয়েটি বেঁচে যেতে পারত। তাই আকিরার মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি সতর্কবার্তা—হাম এখনো ভয়ংকর, বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের জন্য। ‘টিকা না নেওয়া শিশু’ কথাটা হয়তো ভুল হলো। টিকা না পাওয়া বলতে হবে। কারণ যে হামকে ২০২৪ সালের মধ্যে একেবারে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য ছিল, সেখানে আজ দুই বছর পর প্রতিদিন শিশুর মৃত্যু দেখে যেতে হচ্ছে। যে বাংলাদেশের টিকাদানের সাফল্য বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছিল, সেই বাংলাদেশেই এ ঘটনা ঘটছে। ঘটছে কারণ বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের গোয়াতুর্মি, অনীহা, অদূরদর্শিতা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের পর কোনো রুটিন টিকা কেনেনি বাংলাদেশ। একটি টক শো তে এসে এ কথা স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাবেক ব্যবস্থাপক ও খ্যাতনামা টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী। 

শুধু টিকা থাকলেই হবে না, রোগ বাড়লে হাসপাতালও প্রস্তুত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন, পিআইসিইউ, চিকিৎসক, দ্রুত সেবা—এসব না থাকলে বাবা–মাকে সন্তানের জীবন বাঁচাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে দৌড়াতে হয়। আকিরা আর ফিরবে না। কিন্তু তার গল্প প্রশ্ন রেখে যায়—আর কত? 




দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু

এই প্রশ্ন এখন আরও বড় হয়ে উঠেছে, কারণ চলতি বছর হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ২০ দিনে নিশ্চিত হামে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, আর সন্দেহজনক হামে মৃত্যু ছিল ৯৮। পরে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ ৯ মে পর্যন্ত হামে এবং উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৫২।

এটি শুধু একটি রোগের পরিসংখ্যান নয়; এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সতর্কসংকেত। যে দেশে বহু বছর ধরে টিকাদান কর্মসূচিকে সাফল্যের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, সেই দেশেই এখন হাম আবার প্রাণঘাতী রূপে ফিরে এসেছে।


হাম ছড়িয়েছে দেশজুড়ে

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বলছে, দেশের প্রায় সর্বত্র হাম ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। অর্থাৎ সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে ছোট শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারণা, প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস থাকতে পারে। 

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম শনাক্ত হয় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে। এরপর তা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। অনেক জায়গায় আলাদা হাম ওয়ার্ড খুলতে হয়েছে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিভ্রান্তি

এমন সংকটের সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জনস্বাস্থ্য যোগাযোগে স্পষ্টতা। কিন্তু সেখানে দেখা গেছে বিভ্রান্তি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আট বছর আগে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল, এরপর আর দেওয়া হয়নি।” বক্তব্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। 

কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, টিকাদান কখনোই বন্ধ ছিল না। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদানের হার ছিল ৮৯ থেকে ১০৩ শতাংশের মধ্যে। এমনকি ২০২০ সালেও দেশব্যাপী হাম–রুবেলা ক্যাম্পেইন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও বলেছেন, প্রতিবছরই টিকা দেওয়া হয়েছে। 

অর্থাৎ সমস্যা “আট বছর টিকা না দেওয়া” নয়; সমস্যা হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের কভারেজ কমে যাওয়া, নজরদারির ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের বাদ পড়ে যাওয়া, এবং তৈরি হওয়া ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’। সংকটের সময় ভুল বার্তা জনআস্থা নষ্ট করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করে। 

 

হাম নিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

টিকাদানের ক্ষেত্রে সফল হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশে হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টিকাদানের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হামের সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা। ইউনূস সরকারের  স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহার বেগমকে এসব বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে শোনা যায় না। কিন্তু সরব ইউনূসের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। তিনি রণে ভঙ্গ দেন নি। বরং বলে যাচ্ছেন তারা কী করার চেষ্টা করেছিলেন, কী কী করেছিলেন ইত্যাদি। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রধানের বক্তব্য হয়তো আসল বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।


কোথায় ভাঙল সুরক্ষা বলয়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম এতটাই সংক্রামক যে এটি ঠেকাতে ৯৫ শতাংশের বেশি টিকা কভারেজ দরকার। কিন্তু ২০২৪ সালে টিকাদানের হার নেমে আসে ৮৬ দশমিক ৬ শতাংশে। ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশে। এই পতনই আজকের প্রাদুর্ভাবের বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

এবার হাম ছড়িয়ে পড়ার পেছনে গত বছরের টিকাদানের নিম্নহার, এ কথা একাধিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রকাশ্যে বলেছেন। বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে শুধু হামের টিকা নয়, অন্য সব ধরনের টিকা কেনার ক্ষেত্রে এক ধরনের ঢিলেমি লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দূরাস্ত, এতদিনের অর্জনগুলো নষ্ট করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ওই সরকারের স্বাস্থ্যের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। 

২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে হাম নির্মূলের (এলিমিনেশন) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। নির্মূলের অর্থ হচ্ছে, দেশে এক বছরের মধ্যে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে হামের কোনো সংক্রমণ থাকবে না। এ রকম পরিস্থিতি টানা দুই বছর অব্যাহত থাকলে হাম নির্মূলের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে, কিন্তু চলমান প্রাদুর্ভাবের কারণে বিষয়টি আর হলো না।

ফলে এমন একটি বড় শিশু সমাজ তৈরি হয়েছে, যাদের শরীরে হামের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।


হাসপাতালগুলোও প্রস্তুত ছিল না

শুধু সংক্রমণ নয়, চিকিৎসা সক্ষমতাও বড় সংকট। হামের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব, শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা পর্যন্ত হতে পারে। গুরুতর রোগীদের জন্য দরকার অক্সিজেন, আইসোলেশন, নিবিড় পরিচর্যা, দক্ষ জনবল। কিন্তু বাস্তবে পরিবারগুলোকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে।

যখন কোনো রোগ প্রাদুর্ভাব আকার নেয়, তখন হাসপাতালের প্রস্তুতি কেবল চিকিৎসার প্রশ্ন নয়—এটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।


এখন কী করা হচ্ছে?

সরকার হটস্পট এলাকায় টিকাদান শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ৩০ উপজেলায় কর্মসূচি চলছে। ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর–দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে চার সপ্তাহব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েঝে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হামে মৃত্যু কমছে না।  

এটি জরুরি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

তবে প্রশ্ন হলো, এই পদক্ষেপ কি সময়মতো নেওয়া হলো? নাকি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পর?


যে শিক্ষা এখনই নিতে হবে

এই সংকট থেকে অন্তত পাঁচটি শিক্ষা জরুরি:

এক. টিকাদান কর্মসূচিকে কখনোই ঢিলেঢালা করা যাবে না।

দুই. জন্ম থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত খুঁজে এনে টিকার আওতায় আনতে হবে।

তিন. জনস্বাস্থ্য বার্তায় ভুল বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য চলবে না।

চার. হাসপাতাল পর্যায়ে অক্সিজেন, পিআইসিইউ ও আইসোলেশন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

পাঁচ. মৃত্যু ও সংক্রমণের তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে।

আকিরা আর ফিরবে না। কিন্তু তার গল্প শুধু একটি পরিবারের কান্না হয়ে থাকলে চলবে না। এটি রাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা, সমাজের জন্য শিক্ষা, নীতিনির্ধারকদের জন্য দায়বদ্ধতার পরীক্ষা। একটি শিশুর শেষ অনুরোধ—“বাবা আমাকে বুকে নাও”—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সবচেয়ে ছোট মানুষগুলো। প্রতিদিন এতো এতো শিশুর মৃত্যু, এর দায় কোনো ভাবেই রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। 

মন্তব্য করুন

Logo