দিল্লিতে অতিরিক্ত গরমে পার্কের গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন কয়েকজন
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ দেখা গেছে গত ২৭ এপ্রিল। সেদিন বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ৫০টি শহরের তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিটি শহরই ছিল ভারতের। নজিরবিহীন এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
তালিকার শীর্ষে ছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা শহর। ওই দিন শহরটিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। অর্থাৎ দিন-রাত মিলিয়েই প্রচণ্ড গরমে কার্যত পুড়েছে পুরো অঞ্চলটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ শুধু জনজীবন নয়, কৃষি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
একই দিনে বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামের তাপমাত্রার তথ্য তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও তা উদ্বেগমুক্ত নয়। অনলাইনে পাওয়া আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং সর্বনিম্ন ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। অন্যদিকে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৮৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং সর্বনিম্ন ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ভবিষ্যতের আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণ, বৃক্ষনিধন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
তাদের মতে, এখনই কার্যকর জলবায়ু নীতি গ্রহণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার দিকে না গেলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য গ্রীষ্মকাল আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন

