হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রমোদতরীতে তিন যাত্রীর মৃত্যু
হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রমোদতরীতে তিন যাত্রীর মৃত্যু
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:২০ এএম
নেদারল্যান্ডসের একটি প্রমোদতরীতে হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইঁদুরবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পর্যটন সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের মেরু অভিযাত্রী জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসে এই চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কেপ ভার্দে অঞ্চলের কাছাকাছি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থান করছে।
মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আর্জেন্টিনা থেকে ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। পথে এটি অ্যান্টার্কটিকা ও কয়েকটি স্থানে যাত্রাবিরতি করে।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন মুখপাত্রের বরাতে দুজন ডাচ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, তিনি ব্রিটিশ নাগরিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, ছয়জন অসুস্থ যাত্রীর মধ্যে একজনের শরীরে হান্তাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ অসুস্থ যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়নি। এদিকে ডাচ কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত যাত্রীদের মধ্যে দুজন এবং একজন মৃত ব্যক্তির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুরের মল বা প্রস্রাব বাতাসে মিশে গেলে কিংবা দূষিত পরিবেশ পরিষ্কার করার সময় মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও কিছু বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগ প্রথমে ফ্লু বা সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়, পরে তা হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুস বিকল করে দিতে পারে। এ রোগে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
হান্তাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই; তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক এবং সহায়ক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
মন্তব্য করুন

