বনগাঁর বিজেপি বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাস্কর্যটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো
বনগাঁয় ভাঙা হলো নীল বিদ্রোহ-র ভাস্কর্য
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০১:৩২ এএম
পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় ভাঙা হলো ‘নীল বিদ্রোহ’-এর ভাস্কর্য। রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বনগাঁর বিজেপি বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বনগাঁর ব্যস্ততম বাটা মোড় এলাকায় থাকা নীল বিদ্রোহভিত্তিক ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নীল বিদ্রোহের কাহিনি অবলম্বনে ওই ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। একটি পক্ষ বলছে, শুরু থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশের আপত্তি ছিল। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে ভাস্কর্য নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। কেউ কেউ আবার ভাস্কর্যগুলোকে রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতির সঙ্গেও যুক্ত করতেন। পরে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছেও সেগুলো সরানোর দাবি জানান। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সেটা বিস্ফোরিত হয়।
তবে, অপরপক্ষ ঐতিহাসিক বিদ্রোহের স্মারক ভেঙে ফেলা কে, শুধু স্থাপনা অপসারণ বলতে নারাজ। তারা বলছে, এর ভেতরে আরও গভীর এক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে।
১৮৫৯ সালের নীল বিদ্রোহ কেবল কৃষকদের একটি আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার মাটিতে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থান। বাংলার কৃষকরা নীলচাষে অস্বীকৃতি জানিয়ে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গ্রামীণ সমাজের নেতৃত্ব, মধ্য ও বৃহৎ কৃষক—সবাই যুক্ত হয়েছিলেন সেই প্রতিরোধে। এটি ছিল শ্রমের ন্যায্য মূল্য, মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের লড়াই। সেটাকেই মুছে ফেলতে চাইছে বিজেপি সরকার।
মন্তব্য করুন

