Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

মায়ের জায়নামাজ

মুস্তাফিজ শফি ও মা

দিন-প্রতিদিন

মা দিবস

মায়ের জায়নামাজ

মুস্তাফিজ শফি

Icon

মুস্তাফিজ শফি, লেখক ও সম্পাদক

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

আমি তো প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলি, বাগানে হাঁটাহাঁটি করি, পুকুরে মাছেদের খুনসুটি দেখি। আগের মতোই বলাবলি করি, এবারের পৌষে বড়ভাই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরলে বড় রুই দুটোকে তুলে আনব। আর মাঝারি আকারের যেক’টা কাতল আছে ওরা থাক্ আরো কিছুদিন, মেজ ভাইয়ের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত।

লাল মুরগিটা বাচ্চা দিয়েছে এগারোটি। মা বলেন, ‘সব ক’টার দিকে নজর দিস না। কমপক্ষে দুটি যাবে চিল আর বেজির আহারে, কাঁপুনে বুড়ি যে ফকিরটা তার জন্য মানত করেছি একটা, তোদের ছয় ভাই-বোনের ছয়টাতেই যথেষ্ট, তাও বাকি থাকে দুটো।’

বড়শিতে এক বিশাল বোয়াল মাছ ধরার পর মেজমামা এসে সবাইকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিশোর বয়সী আমার চেয়েও মাছটা ছিল আধহাত লম্বা। কিংবা আসামের বাণিজ্য শেষে বড় মামা যখন ফিরতেন বাড়ি তখন তার হাতে ধরা থাকত দু-দুটি খাসি। মা তো এখনও মনে করিয়ে দেন সেইসব সোনালি স্মৃতিকথা।

পবিত্র আয়াতের সঙ্গে মুঠোভর্তি মাটি দিয়ে ভরিয়েছি কবর। শিয়রের কাছে শিউলি ফুলের চারা, বরই কাঁটা, মসুর ডাল, বাঁশের বেড়া, তারপর শেষ মোনাজাত, ‘আল্লাহ তোমার হাতে দিলাম সঁপে ...’। সব আনুষ্ঠানিকতাই সম্পন্ন হয়েছে সেই কবে, তবুও হারিয়ে যাননি তিনি। আতর-লোবান ছড়ানো সেই দিনের পরও আমার মা-তো আমার সঙ্গেই আছেন। আমি টের পাই, মা আসেন, বারবার আসেন। আমার কাছে গচ্ছিত রাখা জায়নামাজটি বিছিয়ে বসেন। আর আমি মায়ের স্পর্শ পেতে সেজদার নামে প্রতিদিনই চুমু খাই সেই জায়নামাজে।

মুস্তাফিজ শফি, বহুমাত্রিক লেখক, সম্পাদক


মন্তব্য করুন

Logo