মাবিয়া আক্তার ও তার মা
মাবিয়া আক্তার, ভারোত্তলক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
আমার মা একজন সাধারণ গৃহিণী। হয়তো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁর যে অবদান, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। লিখতে গেলে হয়তো এক দিনও কম পড়ে যাবে। অনেক পরিবারে মেয়েদের শুধু সংসার বা বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়, কিন্তু আমার মায়ের চিন্তাধারা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা যা করতে চেয়েছি, মা সবসময় তাতে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলতেন, “আমি যা করতে পারিনি, আমার মেয়েরা তা করে দেখাক।”
মায়ের কাছ থেকে আমরা কখনো কোনো কাজে বাধার মুখে পড়িনি। বরং তাঁর কাছ থেকেই আমি জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি গুণ পেয়েছি— ধৈর্য ও সহনশীলতা। আমাদের ছোটবেলা ছিল সংগ্রামে ভরা। সেই কঠিন সময়ে মা যেভাবে সংসার সামলেছেন, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন, তা থেকেই আমরা শিখেছি কীভাবে জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়। আজ আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পেছনে মায়ের সেই অসীম ধৈর্য আর মানসিক শক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে।
এখন মা গর্ব করে বলেন, তিনি আমার পরিচয়ে পরিচিত হতে পারছেন। একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! আসলে মায়েদের অবদান এত বিশাল যে, নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয় উল্লেখ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানানো সম্ভব নয়। তাঁরা আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন— এটাই তো সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
আমি মনে করি, প্রতিটি মানুষের জীবনেই বাবা-মায়ের ছায়া থাকা খুব প্রয়োজন। আমি সবসময় প্রার্থনা করি, আমার মা-বাবা যেন দীর্ঘজীবী হন। যদি সম্ভব হতো, তবে আমি কখনোই তাঁদের আমার জীবন থেকে দূরে যেতে দিতাম না। তাঁদের স্নেহ আর ছায়া যেন সবসময় আমার মাথার ওপর থাকে।
মাবিয়া আক্তার, ভারোত্তলক
মন্তব্য করুন

