বাংলার মাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল বিদ্রোহের আগুন
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১১:২৭ এএম
১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ। ব্যারাকপুরের এক সিপাহি মঙ্গল পান্ডের বিদ্রোহ যেন কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে। তার হাত ধরেই শুরু হয় ইতিহাসের বিখ্যাত সিপাহি বিপ্লব। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, দিল্লিসহ ভারতের নানা প্রান্তে। মিরাটের সিপাহিরা ১১ মে দিল্লি দখল করে নেয়। এর ঢেউ এসে লাগে তৎকালীন বাংলার মাটিতেও। আতঙ্ক, উত্তেজনা আর গোপন প্রতিরোধে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রংপুর, পাবনা ও দিনাজপুর।
চট্টগ্রামে বিদ্রোহ যেন এক নাটকীয় রূপ নেয়। ১৮ নভেম্বর সেখানকার পদাতিক বাহিনীর সিপাহিরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তারা জেলখানা ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখলে নেয়, কোষাগার লুট করে এবং অস্ত্রাগারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বিদ্রোহীরা ত্রিপুরার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে এটি ছিল এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা।
চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নাড়িয়ে দেয়। আরও বিদ্রোহের আশঙ্কায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ৫৪তম রেজিমেন্টের তিনটি কোম্পানি ও একশ নৌসেনা ঢাকায় পাঠায়। পাশাপাশি যশোর, রংপুর, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয় নৌ-ব্রিগেড। ঢাকায় ইউরোপীয় বাসিন্দাদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।
কিন্তু উত্তেজনা থামেনি। ২২ নভেম্বর লালবাগে অবস্থানরত সিপাহিদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুহূর্তেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে অনেক সিপাহি নিহত ও বন্দি হন। কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যান। পরে অধিকাংশকেই গ্রেপ্তার করা হয়। সামরিক আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় কার্যকরও করা হয় খুব দ্রুত।
সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও যশোরেও তখন ছিল চাপা উত্তেজনা। পলাতক সিপাহিদের সঙ্গে ইউরোপীয় সৈন্যদের একাধিক সংঘর্ষ ঘটে। কোথাও কোথাও প্রাণহানিও হয়। বন্দি সিপাহিদের দ্রুত বিচারের নামে অনেককে ফাঁসি কিংবা নির্বাসনের শাস্তি দেওয়া হয়।
তবে এই বিদ্রোহে বাংলার সমাজের ভূমিকা ছিল মিশ্র। জমিদার ও জোতদারদের বড় অংশ ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ নেয়। তারা ব্রিটিশদের গরু, ঘোড়ার গাড়ি ও হাতি সরবরাহ করে, বিদ্রোহী সিপাহিদের গতিবিধির খবর দেয় এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করে বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করে। এর পুরস্কার হিসেবে পরে ব্রিটিশ সরকার তাদের ‘নওয়াব’, ‘খান বাহাদুর’, ‘রায় বাহাদুর’সহ নানা উপাধি ও সম্পদে ভূষিত করে।
মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেও তখন কোম্পানি সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে সাধারণ মানুষ ও কৃষকসমাজ এই সংঘাত থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। তবুও যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। আর বাংলার মাটিতেও সেই বিদ্রোহের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল আতঙ্ক, প্রতিরোধ ও ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায় হয়ে।
এই দিনে
আজ ১১ মে ২০২৬, সোমবার। জেনে নিন ইতিহাসের এই দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা
• ৩৩০ - কনস্টান্টিনোপল রোম সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী হয়।
• ৯১২ - আলেকজান্ডার বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট হন।
• ১৮৫৭ - সিপাহী বিদ্রোহ: সৈনিকরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে দিল্লি দখল করে নেয়।
• ১৮৬৭ - লুক্সেমবার্গ স্বাধীনতা অর্জন করে।
• ১৯৩৫ - জার্মানীর বার্লিন শহরে প্রথম টেলিভিশন প্রেরণ যন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত পৃথিবীতে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়।
• ১৯৪৯ - ইসরায়েল জাতিসংঘে যোগ দেয়।
• ১৯৯৪ - ফিলিস্তিনি পুলিশ গাজায় এলে ২৭ বছরের ইসরায়েলি দখলদারির অবসান ঘটে।
• ২০১৬ – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মন্তব্য করুন

