Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

রুশ সাহিত্যের সমকালীন লেখকরা কোথায়?

Vladimir Sorokin তিন সমকালীন রুশ সাহিত্যিক ভ্লাদিমির সুরোকিন, ইগুয়েনে ভদোলাজকিন ও লায়িউদমিলা উলিটস্কায়া, ছবি:সংগৃহীত

শিল্প-সংস্কৃতি

রুশ সাহিত্যের সমকালীন লেখকরা কোথায়?

Icon

হেমায়েত উল্লাহ ইমন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:১৭ এএম

আমাদের দেশের বেশিরভাগ বইয়ের দোকান কিংবা লাইব্রেরিতে কোনো জীবিত রুশ সাহিত্যিকের বই পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও খুব একটা ব্যতিক্রম দেখা যায় না। আলেক্সান্দর পুশকিন, নিকোলাই গোগল, ইভান তুর্গেনেভ, ফিওদর দস্তয়েভস্কি, লেভ তলস্তয়, আন্তন চেখভ, ম্যাক্সিম গোর্কি, বরিস পাস্তের্নাক, মিখাইল বুলগাকভ, আন্না আখমাতোভা, ভ্লাদিমির নাবোকভ, আলেক্সান্দর সলঝেনিৎসিন—এই কয়েকজনই যেন পুরো রুশ সাহিত্য। ১৯৮৯ সালের পর যেন রুশ ভাষায় আর কেউ কিছুই লেখেননি।
এটা বড়সড় সমস্যা। কারণ বাস্তবতা হলো, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও বহু মানুষ রুশ ভাষায় লিখে গেছেন। একুশ শতকের রাশিয়াকে বোঝার উপায় ও সংবাদ-শিরোনামের বাইরের রাশিয়াকে জানার অন্যতম উপায় হচ্ছে সমসাময়িক রুশ সাহিত্য পড়া ।
পরিষ্কার করে বলি, ভ্লাদিমির পুতিন ও তার শাসনব্যবস্থার পক্ষে কোনো ধরনের সাফাই গাওয়ার আগ্রহ আমার নেই। বর্তমান রুশ রাষ্ট্র সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর রাষ্ট্রগুলোর একটি। নিঃসন্দেহে আজ রাশিয়ার ভেতরে “মহৎ সাহিত্য” হিসেবে যেসব লেখা তুলে ধরা হয়, তার অধিকাংশই মূলত প্রচারণা। এর মধ্যে এমন লেখকরাও আছেন, যারা পশ্চিমে যথেষ্ট মনোযোগ পেয়েছেন, যেমন ইউজিন ভোডোলাজকিন, সম্ভবত রাশিয়ার বাইরে সবচেয়ে পরিচিত সমকালীন রুশ লেখক। সোভিয়েত কিয়েভে জন্ম নেওয়া ভোডোলাজকিন পুরনো রুশ সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এমন সব উপন্যাস লিখেছেন। তিনি যেমন রুশ শাসকগোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছেন, তেমনি পশ্চিমের বহু রুশ অর্থডক্স-আসক্ত পাঠকেরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এর একটি বড় কারণ হলো, ইউক্রেন আক্রমণ এবং বিশেষত “রুশ বিশ্ব” ধারণাকে কেন্দ্র করে চতুর এবং ক্ষতিকর খেলা খেলছেন ভোডোলাজকি ।

“রুশ বিশ্ব” হলো রুশ রাষ্ট্র ও রুশ অর্থডক্স চার্চের প্রচারিত এক আদর্শিক ও ভূরাজনৈতিক ধারণা। রুশ ভাষা, ধর্ম ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে এক অতিরাষ্ট্রিক সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক কল্পিত সম্প্রদায়ের ধারণা এর মূল ভিত্তি। ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার ভিত্তিও এই ধারণায় নিহিত। ভোডোলাজকিন নিজের জীবন ও পরিচয়কে ব্যবহার করে এই বিশ্বাসকে নীরব সমর্থন দেওয়ার এক ওস্তাদে পরিণত হয়েছেন। অথচ পশ্চিমা সমালোচক, প্রকাশক ও পাঠকেরা এই সত্য উপেক্ষা করে তার কাজকে প্রচার করেই চলেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার তার লেখায় এমন “ইস্টার এগ” খুঁজতে ব্যস্ত, যেটা নাকি প্রমাণ করবে তিনি ভিন্ন কিছু বিশ্বাস করেন। রাশিয়ার অতীতকে রোমান্টিকভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাওয়া পাঠকের এক বিশেষ মানসিকতাই এই সহযোগিতার জন্ম দিয়েছে। আমরা যেন রাশিয়ার বর্তমানের মুখোমুখি হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই।
এই সহযোগিতার কারণেই আমাদের উচিত পুতিন-অনুমোদিত লেখকদের বাইরে তাকানো। কারণ রাশিয়ার সেরা সমকালীন লেখকদের অধিকাংশই এখন আর রাশিয়ায় বাস করেন না। কোনো দেশের ক্ষেত্রেই এটা শুভ লক্ষণ নয়। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য, কারণ এই দেশটির ইতিহাস একদিকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নে পরিপূর্ণ, অন্যদিকে অসাধারণ সাহিত্যিক প্রতিভায় দীপ্তয় এক বিরল ও অস্বস্তিকর যুগলবন্দি। বলা যেতে পারে, গত দুই শতাব্দী ধরে রুশ সাহিত্যই রুশ সংস্কৃতিকে সবচেয়ে সৎ ও সহজবোধ্যভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। যে সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রায়ই, এবং অনেক ক্ষেত্রে যথার্থভাবেই, খলনায়কের ভূমিকায় দেখা হয়েছে। ফলে রুশ সাহিত্যের মাধ্যমেই এই দেশ ও তার মানুষদের আরও জটিল ও সূক্ষ্ম এক চিত্র বিশ্বের কাছে পৌঁছেছে।
এর একটি বড় কারণ হলো, রাশিয়ার লেখকেরা প্রায়ই শাসকদের তৈরি করা রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আলেক্সান্দর পুশকিন ও লিও তলস্তয় । পুশকিনের Ode to Liberty কবিতাটি ডিসেম্বরবাদী বিদ্রোহীদের কাছে পাওয়া যাওয়ার পর জার আলেক্সান্দার প্রথম তাকে নির্বাসনে পাঠান।
 রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ কবি যখন তার শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্ম Boris Godunov লেখেন, তখন তিনি রাষ্ট্রীয় নজরদারির মধ্যে ছিলেন । প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে নাটকটি মঞ্চস্থ হতে ৩০ বছর লেগে যায়। একইভাবে, Anna Karenina ও War and Peace-এর জন্য খ্যাতি পাওয়ার পর তলস্তয় তার জীবনের বাকি সময় ধর্মীয় ও দার্শনিক রচনা লেখায় ব্যয় করেন । এসব লেখা সরাসরি রুশ অর্থডক্স চার্চকে আক্রমণ করেছিল।
এই দমন-পীড়নের ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক। ২০২৪ সালে রাশিয়ান বুক ইউনিয়নের অধীনে একটি “বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র” গঠন করা হয় ল। এর কাজ ছিল রাশিয়ায় প্রকাশিত সব বই “আইনি সামঞ্জস্যের” জন্য পরীক্ষা করা বিশেষ করে রাজনৈতিক ভিন্নমত ও এলজিবিটিবিরোধী নতুন বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে। এই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন রুশ ঐতিহাসিক সমিতি, রুশ অর্থডক্স চার্চ এবং ম্যাক্সিম গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটের সদস্যরা। এর ফলস্বরুপ শুধু বই সরানোই নয়, লেখক ও প্রকাশকদের কারাবরণও করতে হয়েছে। যেমন, ২০২৫ সালের মে মাসে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান Eksmo এবং তাদের দুটি ইমপ্রিন্ট Popcorn Books ও Individuum-এর বিরুদ্ধে “এলজিবিটি চরমপন্থা” আইনের আওতায় ফৌজদারি মামলা করা হয়।

প্রকাশনা শিল্পের প্রতি সরকারের  এই হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার লেখকেরা এখনো জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যকথক। যদিও সমকালীন রুশ সাহিত্য তার পূর্বসূরিদের মতো বৈশ্বিক মর্যাদা আর ধরে রাখতে পারেনি। এই মর্যাদাহানির পেছনে রয়েছে নানা বাস্তব ও আদর্শিক কারণ। প্রথমত, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বাজারের কঠোর সীমাবদ্ধতা। ইংরেজিতে লেখা নয় বা ইংরেজি অনুবাদে বড় বিনিয়োগ নেই, এমন বইয়ের বিস্তার বাজারে সীমিত। কিন্তু এর থেকেও বড় কারণ হলো সাংস্কৃতিক ভোগের পরিবর্তিত নৈতিক মানদণ্ড। এই নতুন আদর্শিক নিয়ম অনুযায়ী, রুশ রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে রুশ সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকে বর্জন করা উচিত। অথবা ইতিবাচক ভাষায় বললে, প্রতিনিধিত্ব ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ইউক্রেনীয় সাহিত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?
এই ধরনের সাংস্কৃতিক অবস্থানের যথাযথ মূল্য ও গুরুত্ব আছে। কিন্তু একে যখন চূড়ান্ত ও আপসহীন রূপে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা আমাদের আর উপকার আসে না। যে কোনো ধরনের নীতিবাদ, এমনকি আমাদের পছন্দের নীতিবাদও, শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। বরং এই ধরনের চূড়ান্ত অবস্থান আরেক ধরনের নীরবতা, আরেক ধরনের অবিচারের অংশ হয়ে ওঠে। এর ফলেই তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল বা প্রতিক্রিয়াশীল পাঠকেরা এখনো রুশ সাহিত্য পড়ছেন, এবং একই কারণেই ভোডোলাজকিনের মতো লেখকরা আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ভেতরে প্রকৃত নিপীড়নের শিকার লেখকেরা আন্তর্জাতিক বাজারেও উপেক্ষিত থাকছেন। সত্যি বলতে, এর ফলে অসাধারণ কিছু সাহিত্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি।
সের্গেই দাভিদভের প্রথম বইয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে তোলিয়াত্তিতে জন্ম নেওয়া দাভিদভ নাট্যকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তার পুরস্কারপ্রাপ্ত নাটক Leo Tolstoy 49 ২০১২ সালে “Eurasia” পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। তখনও তিনি সামারা স্টেট অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়ছেন । এরপর তিনি ৩০টিরও বেশি নাটক লিখেছেন। কিন্তু তিনি উপন্যাস লেখা শুরু করেন ২০২২ সালে, ইউক্রেন আক্রমণের পর। যুদ্ধের প্রতিবাদে তিনি শুধু প্রকাশ্যে অবস্থানই নেননি, নিজেকে সমকামী বলেও ঘোষণা করেন। ফলে, দুইটি ভিন্নমত একসাথে প্রকাশ্যে আসে। বলে রাখা ভালো, রাশিয়াতে কুইয়ার মানুষদের আইনের চোখে “চরমপন্থী গোষ্ঠী” হিসেবে দেখা হয়।
এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জার্মানিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি প্রকাশ করেন তার প্রথম উপন্যাস Springfield—সমকালীন রাশিয়ার নির্জন বাস্তবতায় নির্মিত এক কুইয়ার বেড়ে ওঠার কাহিনি। সমানভাবে ট্র্যাজিক ও হাস্যরসাত্মক এই উপন্যাসে এমন এক লেখকের কণ্ঠ শোনা যায়, যিনি রুশ মহাকাব্যিক সাহিত্যধারায় গভীরভাবে প্রশিক্ষিত।

মজার বিষয় হলো, সমকালীন সেরা রুশ লেখকদের মধ্যে কুইয়ার নারী-পুরুষের উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এই বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ “এলজিবিটি চরমপন্থা” দমনের অজুহাতেই রুশ সাহিত্যকে দমন করা হয়েছে, অর্থাৎ কুইয়ার কণ্ঠকে রোধ ও কুইয়ার জীবনকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।
এছাড়াও আছেন ইলিয়া দানিশেভস্কি, যিনি ২০২২ সাল থেকে জার্মানিতে বাস করছেন। তার কাজ বিশেষ করে ২০১৮ সালের উপন্যাস Mannelig in Chains—ঐতিহাসিক স্মৃতিকে কেন্দ্র করে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রচারণার কেন্দ্রে আঘাত হানে। আছেন অকসানা ভাসিয়াকিনা, কবি ও ঔপন্যাসিক, যার প্রথম উপন্যাস Wound একসময় Vogue-এ আলোচিত হয়েছিল—নির্বাসিত রুশ সাহিত্যজগতের জন্য যা ছিল বিরল মূলধারার স্বীকৃতি।
Vogue-এর সেই প্রোফাইল ছাড়া, সমকালীন রুশ সাহিত্যের এই ধারার টিকে থাকার বড় কৃতিত্ব জর্জি উরুশাদজের। একসময় তিনি রাশিয়ার তিনটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারের প্রধান ছিলেন। তিনি Palmira প্রকাশনীর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং রুশ সাহিত্যজগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০২২ সালের আক্রমণের পর তিনিও দেশ ছাড়েন। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ Freedom Letters—একটি রুশ ও ইউক্রেনীয় ভাষার প্রকাশনা সংস্থা, যা রুশ সাহিত্যিক প্রবাসীদের বহু কাজ প্রকাশ করছে। উপযুক্ত সতর্কতার সঙ্গে তারা এখনো রাশিয়ার ভেতরের, এমনকি কারাবন্দি লেখকদেরও লেখা প্রকাশ করে। গত বছর যখন এই প্রকাশনা সংস্থা American Association of Publishers-এর Freedom to Publish Award পায়, তখন উরুশাদজে বলেছিলেন, “পাঠকের কাছে পৌঁছানো প্রতিটি বইই প্রমাণ করে যে গল্প সীমান্ত, নিষেধাজ্ঞা ও ভয়ের চেয়েও দীর্ঘজীবী।”
অবশ্য, কোনো গল্প পাঠকের কাছে পৌঁছাতে হলে পাঠককেও সেই গল্পের নাগালে থাকতে হয়। কোনো এক সময় আন্তর্জাতিক পাঠকমহলের একটি অংশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রুশ সাহিত্য আর বিশ্বমানবতার সম্পদ নয়, অন্তত গত ত্রিশ বছরে লেখা কিছুই নয়। অথচ সত্য হলো, রাশিয়ার ভেতরে শাসক-সমর্থিত অনেক সাহিত্যই নিঃসন্দেহে কদর্য প্রচারণা হলেও, রাশিয়ার বাইরে রুশ সাহিত্যের মহৎ ঐতিহ্য এখনো প্রবলভাবে বেঁচে আছে। বরং বলা যেতে পারে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তা আরও জীবন্ত।
রুশ সাহিত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সবসময় তখনই, যখন তা ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আজও তাই। তবে এখন সেই কণ্ঠ অধিকাংশ সময় নির্বাসন থেকেই উচ্চারিত হয়। যদি আমরা সত্যিই কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই এবং যাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে তাদের শুনতে চাই, তাহলে আমাদের উচিত সেই লেখকদের পড়া, যাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Logo