আগামী শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), ছবি: সংগৃহীত
সরকার বদলালেই কেন বদলায় পাঠ্যবই ও কারিকুলাম?
অনিকেত শুভ্র
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:০২ এএম
সাল ২০২২। রাজধানীর খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সিরাজুল আপ্ত। সে বছর তার পড়াশোনা শুরু হয় সৃজনশীল কারিকুলামে। পরের বছর সপ্তম শ্রেণিতে উঠতেই বদলে যায় শিক্ষা কারিকুলাম। নতুন পদ্ধতি বুঝে ওঠার আগেই ২০২৪ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ওঠে সে। ঠিক তখনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও বদলে যায় শিক্ষাব্যবস্থা। ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উঠে আপ্ত দেখে, শিক্ষা পদ্ধতি ফিরে গেছে সেই পুরোনো সৃজনশীল ধারায়।
এখন তার প্রশ্ন— আগামী বছর এসএসসির পর একাদশ শ্রেণিতে আবার কি নতুন কোনো কারিকুলামে পড়তে হবে?
আপ্তর ভাষায়, “এই পাঁচ বছরেই আমরা কত কিছু দেখলাম। কারিকুলাম বদলালো, পাঠ্যবই পাল্টালো। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত যে ইতিহাস পড়েছি, নবমে উঠে দেখি তার অনেক কিছুই আর নেই।”
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবই, শিক্ষাক্রম ও ইতিহাসের ভাষ্য পাল্টে যাওয়ার প্রবণতা যেন এক অঘোষিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাস না পেরোতেই আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজও শুরু হচ্ছে, যা ২০২৮ সাল থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অতীতেও প্রায় সব সরকারই নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রণয়ন করেছে। কখনও বদলেছে ইতিহাসের ব্যাখ্যা, কখনও শিক্ষার দর্শন, কখনও বা মূল্যবোধের কাঠামো। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থিতিশীল ভিত্তি পায়নি।
শিক্ষাবিদদের মতে, এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। একেক সরকারের সময়ে একেক ধরনের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যুক্ত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির ধারাবাহিক এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাচ্ছে না। পাশাপাশি ঘন ঘন কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে তৈরি হচ্ছে শিখন ঘাটতি ও মানসিক চাপও।
আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে যেসব পরিবর্তন
আগামী শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান নিয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ১ নম্বর সেক্টরে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ আমলে পাঠ্যবইয়ে তার ভূমিকা পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হবে, ওইদিন সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন।
এ ছাড়া নব্বইয়ের গণআন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইতিহাস সংশোধনের কাজে যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ইতিহাসের উপস্থাপন হবে তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ। কাউকে বড় বা ছোট করে নয়, যার যে অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যে আইসিটি বই পড়ানো হয়, তার বেশিরভাগ বিষয়বস্তু ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমভিত্তিক এবং অনেকটাই পুরোনো। তাই এবার আইসিটি বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যারসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা বিষয়।
এ ছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বিভিন্ন বইয়ের কনটেন্টেও আংশিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বইয়ের প্রচ্ছদ, অলংকরণ, মানচিত্র ও লেখার বিন্যাসে নান্দনিকতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রেইল বইয়ের উপস্থাপনাও আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ইতিহাস নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত খেলাধুলা ও সংস্কিবিষয়ক আলাদা বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বইগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে ও দাবার মতো বিষয় থাকবে। মূল্যায়নও হবে ব্যবহারিকভিত্তিক।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, “সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মাথায় রেখেই বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন পাঠ্যবই কমানোর পাশাপাশি যুগোপযোগী বিষয় যুক্ত করা হবে।”
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শেখানোর উপযোগী কাঠামো গড়ে তোলা যায়নি। তাই ভাষা, গণিত, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিশুদের শেখাকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”
বাড়ছে বইয়ের বোঝাও
পাঠ্যবই কমানোর কথা বলা হলেও আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদের কাঁধে যোগ হচ্ছে আরও তিনটি নতুন বই। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে থাকবে ‘শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য’। ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’।
এর মধ্যে আনন্দময় শিক্ষার মূল্যায়নও হবে ব্যবহারিকভিত্তিক। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী বছর বইটি চালু করা হবে, পরে তা অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাধীনতার পর নয়বার বদলেছে কারিকুলাম
অর্থাৎ, আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পরতে যাচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে অন্তত নয়বার শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন হয়েছে। আর ২০২৩ থেকে ২০২৮— এই মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের তিনটি ভিন্ন কারিকুলামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করে। শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে গঠিত কমিশন ১৯৭৪ সালে একটি সমন্বিত শিক্ষানীতির সুপারিশ দেয়। যদিও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও সিলেবাস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন আসে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার প্রাথমিক স্তরে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম চালু করে। এরপর ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক স্তরে উদ্দেশ্যভিত্তিক শিক্ষাক্রম এবং ২০০১ সালে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার শুরু করে। ২০১২ সালে চালু হয় সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু এক দশকের মাথায় ২০২৩ সালে আবার নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই কারিকুলাম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
শিক্ষক প্রস্তুতি ছাড়া বদল, বাড়ছে শিখন ঘাটতি
কারিকুলাম বারবার বদলালেও শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। ফলে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষকই বিপাকে পড়েন। মাঠপর্যায়ে শিক্ষক সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০৮ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৪৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষক সঠিকভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন না। অনেক শিক্ষক অন্য বিদ্যালয়ের সহায়তা বা বাইরের প্রশ্নপত্রের ওপর নির্ভর করেন।
একইভাবে ২০২৩ সালের নতুন কারিকুলাম চালুর সময়ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব ছিল। ফলে শিক্ষকেরা শুরু থেকেই নতুন পদ্ধতি বুঝে উঠতে পারেননি। এতে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, “শুধু কারিকুলাম বদলালে হবে না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সমন্বিত টিচিং-লার্নিং উদ্যোগ নিতে হবে।”
রয়েছে শিক্ষক সংকট
বর্তমানে দেশের শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকটও ভয়াবহ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষকের শূন্য পদ ৬০ হাজারের বেশি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫২ শতাংশে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে হাজার হাজার শূন্যতা।
সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশের ৩৪ হাজার ১২৯টি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষকের শূন্য পদ ৬০ হাজার ২৯৫টি। সরকারি কলেজে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদের ৬৫৬টি শূন্য রয়েছে। সদ্য সরকারি হওয়া কলেজে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদের শূন্য সংখ্যা ২ হাজার ৪১০। এ ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ খালি আছে। এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ হাজার ৪৫৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৫৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদই এখন শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৫২ শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৫ জনকে। একইভাবে সহকারী শিক্ষক পদ রয়েছে তিন লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৩টি, যার মধ্যে শূন্য ২৪ হাজার ৫৩৬টি। এ ছাড়া ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং পাঁচ হাজারের বেশি চারুকলার শিক্ষকসহ ২০ হাজারেরও বেশি সৃষ্ট পদ রয়েছে।
শিক্ষা কি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র?
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক সরকারের প্রকল্প হতে পারে না। এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবার সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবই ও কারিকুলাম পরিবর্তনের যে প্রবণতা দেখা যায়, তা শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিকতাকে দুর্বল করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়, “উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষানীতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে তৈরি হয়। সরকার পরিবর্তন হলেও মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে। বাংলাদেশেও শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বদলে জাতীয় সমঝোতা প্রয়োজন।”
আসলে শিক্ষা কোনো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তাই কারিকুলাম ও পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক পালাবদলের হাতিয়ার না বানিয়ে, জাতীয় ঐকমত্য ও গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থিতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তবেই শিক্ষার্থীরা বারবার পরীক্ষামূলক পরিবর্তনের শিকার না হয়ে একটি ধারাবাহিক, মানসম্মত ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা পাবে।
মন্তব্য করুন

