Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

নিষ্পাপ লাশের রাষ্ট্র: শিশু সুরক্ষা এখনই

কাভার স্টোরি

নিষ্পাপ লাশের রাষ্ট্র: শিশু সুরক্ষা এখনই

Icon

শাহেদ কায়েস

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি তিনতলা বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় শৌচাগারে, শরীরের মূল অংশটি খাটের নিচে।  পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সোহেল রানা স্বীকার করে, রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। রামিসা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। সে হয়তো স্বপ্ন দেখত কী হবে বড় হয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল তার পাশের ফ্ল্যাটের একজন প্রতিবেশী। এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়। এটি বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতার একটি প্রতীক।

রামিসার লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বনশ্রীর একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দশ বছরের আরেক শিশু। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে পাশবিকভাবে বলাৎকার করার পর তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখা যায়। গত এক সপ্তাহে চারজন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না। তথ্য বলছে, বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। 

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ সামাজিক লজ্জা, ভয়, প্রভাবশালী মহলের চাপ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থার কারণে বহু ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায় না।

পরিসংখ্যান কখনো বেদনার পূর্ণ চিত্র দিতে পারে না। কিন্তু সংখ্যাগুলো না দেখলে এই সংকটের গভীরতা বোঝা যায় না। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, ২০২৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ১২ বছরের কম বয়সী অন্তত ৫৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে মোট ১৮০টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৮১ জন ভিকটিমই শিশু। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় শিশু ধর্ষণের হার ৭৫% বেড়েছে। শুধু শেষ দুই মাসেই ৮৫টি ধর্ষণের অভিযোগ রেকর্ড হয়েছে। আসক-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে মোট দুই হাজার ৩৩৯টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, ২০১৩-২০২৪ পর্যন্ত ৫,৬০০-এর বেশি শিশু যৌন সহিংসতার ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, কিন্তু শাস্তি হয়েছে মাত্র ২% ক্ষেত্রে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন বলছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে অন্তত দুই হাজার ৬১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১০১৬ জন ধর্ষণের শিকার, যার মধ্যে ৫৫০ (৫৪ শতাংশ) জন ১৮ বছরের কম বয়সী বা শিশু। এ ছাড়া ২৩০ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার এবং ধর্ষণের পর ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আত্মহত্যা করেছে ১১ নারী। ৫০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ২৭০ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএ’র জরিপ বলছে, ৬২% নির্যাতনের শিকার কখনোই মুখ খোলে না, ৯৬% কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় না। অর্থাৎ আমরা যা জানি, সেটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কোথাও নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও পরিবারের পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই সহিংসতার অভিযোগ এসেছে। প্রতিটি শিশুহত্যা কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়; এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে। কারণ একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধান, শিশু আইন ২০১৩ এবং আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শিশু সুরক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও বহন করছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও শিশু অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

শিশু নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অপরাধীদের অনেকেই শিশুর পরিচিত মানুষ। বিভিন্ন গবেষণা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কিংবা পরিবারের পরিচিতদের বিরুদ্ধেই বহু অভিযোগ ওঠে। ফলে শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশের ধারণা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই সংকটের সামাজিক কারণগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। প্রথমত, শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে শিশুদের শরীর, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পর্কে বয়সোপযোগী শিক্ষা দেওয়া হয় না। ফলে শিশুরা অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হলেও তা বুঝতে পারে না, কিংবা বুঝলেও ভয় ও সংকোচে কাউকে জানাতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ভুক্তভোগীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা এখনো সমাজে বিদ্যমান। বিশেষ করে যৌন সহিংসতার ঘটনায় পরিবারগুলো সামাজিক অপমানের আশঙ্কায় নীরব থাকে। এই নীরবতা অপরাধীদের জন্য পরোক্ষ নিরাপত্তা তৈরি করে। তৃতীয়ত, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি বড় সমস্যা। শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত ও সংবেদনশীলভাবে পরিচালিত না হলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশা হারিয়ে ফেলে। অনেক মানবাধিকার সংগঠন বারবার বলেছে, দ্রুত তদন্ত, ফরেনসিক সক্ষমতা, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী সহায়তা ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এখানে মানবাধিকার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি মানব মর্যাদার চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে শিশুদের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর মধ্যেও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান—সব পর্যায়েই সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, মাদরাসা ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কার্যকর নীতিমালা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা নেই, প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নেই, এমনকি শিশুদের মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় না। অথচ একটি শিশুর জীবনের বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানে কাটে। শিশু সুরক্ষায় পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ, মানসিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা এখন সময়ের জরুরি প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের “গুড টাচ” ও “ব্যাড টাচ” সম্পর্কে সচেতন করা, ভয় না পেয়ে কথা বলতে শেখানো এবং বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করা অপরিহার্য।

ডিজিটাল পরিবেশও এখন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনলাইনে সহিংস ও বিকৃত যৌন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, সাইবার হয়রানি এবং শিশুদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল শিকারি চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে শিশু সুরক্ষা এখন শুধু বাস্তব জগতের নয়, ভার্চুয়াল জগতেরও প্রশ্ন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মাধ্যমে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংশোধন করা হয়েছে এবং শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট দাবি করেছে, ধর্ষণসহ সকল প্রকার যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সংযোজনপূর্বক সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে হবে। 

দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তবতা যে, আমাদের দেশে আইন আছে, বাস্তবায়ন নেই। রামিসার ঘটনায় আইনমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন— এটা চাপ আর প্রতিবাদের মুখে প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের দরকার প্রতিরোধমূলক কাঠামো, প্রতিক্রিয়ামূলক নয়।

মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সংকট মোকাবেলায় চাই বহুস্তরীয় পদক্ষেপ: রাষ্ট্রীয় স্তরে — শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনাল দ্রুত গঠন করে মামলা নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াকে শিশু-বান্ধব করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগী শিশুকে আদালতে বারবার কষ্টের বিবরণ দিতে না হয়। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে— প্রতিটি স্কুল ও মাদরাসায় সিসিটিভি, নিরাপত্তা প্রটোকল, এবং শিশুবান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। বয়সোপযোগী যৌন শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; একটি শিশু যেন জানে কোথায় সীমানা, কী বলতে হয়, কাকে বলতে হয়। সামাজিক স্তরে — পরিবার ও সমাজকে শিশুর বিশ্বাসের পাত্র হতে হবে। শিশু যদি কিছু বলতে চায়, সে যেন বিশ্বাস করতে পারে যে তাকে বিশ্বাস করা হবে, দোষারোপ করা হবে না। লজ্জার সংস্কৃতি ভেঙে প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়তে হবে।

ডিজিটাল স্থানে — শিশু পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অনলাইন শিশু সুরক্ষায় বিশেষায়িত সাইবার সেল গঠন করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। কারণ সহিংসতার ক্ষত শুধু আইনি বিচারে শেষ হয় না; এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশু সুরক্ষাকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে এনে মানবিক ও জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে। কারণ একটি শিশুর নিরাপত্তা কোনো দলীয় প্রশ্ন নয়; এটি সভ্যতার প্রশ্ন। আজ যখন একের পর এক শিশু নির্যাতনের খবর আসে, তখন আমাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি সত্যিই শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে পেরেছি? উন্নয়নের বড় বড় পরিসংখ্যানের ভেতরে যদি একটি শিশুও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সেই উন্নয়ন মানবিক অর্থে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রাইসাদের মৃত্যু আমাদের কেবল শোক দেয় না; আমাদের দায়বদ্ধতার কথাও মনে করিয়ে দেয়। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। 

রামিসা নেই। বনশ্রীর ১০ বছরের সেই শিশুটিও নেই। তাদের ফিরিয়ে আনার সাধ্য কারো নেই। কিন্তু আমরা যারা বেঁচে আছি — অভিভাবক, শিক্ষক, প্রতিবেশী, নাগরিক, রাষ্ট্র — সবার কাছে প্রশ্ন একটাই: এই মৃত্যুগুলো কি আমাদের কিছু বদলাবে, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার ঢেউ থামলেই আমরা আবার ভুলে যাব?

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ বলে: প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার জন্মগত। রাষ্ট্র সেই অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু রাষ্ট্র শুধু সরকার নয় — রাষ্ট্র মানে আমরাও। আমাদের নীরবতা, আমাদের উদাসীনতা, আমাদের “এটা আমার বিষয় নয়” মনোভাব — এগুলোও এই হত্যার সহযোগী। রামিসার মতো প্রতিটি শিশু আমাদের সামষ্টিক দায়িত্বের অংশ। নিষ্পাপ এই শিশুদের  মৃত্যু আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, বিচার চাওয়া শেষ কথা নয় — সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আসল কথা। বিচার হয় অপরাধের পর। সুরক্ষা ঠেকায় অপরাধ ঘটার আগেই।

শিশুরা এ জাতির ভবিষ্যৎ— এ কথা আমরা বলি। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা বলতে হলে আগে বর্তমানকে রক্ষা করতে হয়। রামিসার ভবিষ্যৎ ছিল। তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই কেড়ে নেওয়া বন্ধ হোক, এখনই।

শাহেদ কায়েস: কবি, প্রাবন্ধিক 

মন্তব্য করুন

Logo