অটোরিকশার পরিত্যাক্ত ব্যাটারি সীসা দূষণের বড় উৎস, ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান মব সংস্কৃতি ও অদৃশ্য বিষ সীসার প্রভাব
সাদমান ফাকিদ
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১২:০৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর একটি বিষয় খেয়াল করলাম।
এখানকার বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট কমিউনিটিতে অনেক নতুন বাবা-মা আছেন। প্রায় প্রতিটি কমিউনিটি আয়োজনে তাদের ছোট ছোট সন্তানদের দেখা যায়। তারা সবার সঙ্গে সহজে মেশে, খেলাধুলা করে, আনন্দ করে। অদ্ভুতভাবে মনে হয়েছে, বাংলাদেশের অনেক শিশুর তুলনায় এরা বেশি হাসিখুশি ও শান্ত স্বভাবের। আমার ছোট বোন, কাজিনসহ অনেক শিশুকে বাংলাদেশে বড় হতে দেখেছি; তুলনামূলকভাবে তারা বেশি অস্থির ছিল, বেশি কান্নাকাটি করত—বিশেষ করে অপরিচিত পরিবেশে। সেখানে এই শিশুদের অনেক বেশি মিশুক মনে হয়েছে; কেঁদে উঠলেও দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। অবশ্যই এর বড় কৃতিত্ব তাদের বাবা-মায়ের, তবু বিষয়টি একটি লক্ষণীয় প্যাটার্ন বলেই মনে হয়েছে। এই আলোচনা আমি আরও অনেকের সঙ্গে করেছি, বেশিরভাগই কমবেশি একমত হয়েছেন।
হঠাৎ কান্নাকাটি বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা আসলে একটি জৈবিক বিষয়। আমরা কাঁদি মস্তিষ্কের এক অংশের প্রভাবে, আবার সেই কান্না থামায় আরেক অংশ। আবেগ নিয়ন্ত্রণের এই ইনহিবিটরি মেকানিজম থাকে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে, যা আমাদের উত্তেজনা ও আবেগকে শান্ত করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ এটি মূলত আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়।
দুর্বল আত্মনিয়ন্ত্রণ
এই আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যাটি শুধু শিশুদের নয়, পুরো জাতির মধ্যেই যেন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর থেকে আমরা এমন এক সমাজ দেখছি, যেখানে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তোফাজ্জলের কথা। মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষকে কিছু তথাকথিত সুস্থ ছাত্র প্রথমে মারধর করে আধমরা করল, তারপর থেমে গিয়ে আবার মারতে শুরু করল—শেষ পর্যন্ত হত্যা করল। মনে পড়ে দীপু চন্দ্র দাসের কথাও। মানুষ তাকে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দিল, আশপাশের লোকজন উল্লাস করল—কিন্তু কারও মনে হলো না যে থামা দরকার। আবরার ফাহাদ থেকে লালচাঁদ, সোহাগ—অনেকের মৃত্যুতেই আমরা একই নির্মমতা দেখেছি। যেন এমন একদল যুবক তৈরি হয়েছে, যারা থামতে জানে না; মৃতদেহকেও আঘাত করতে থাকে।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই অল্প সময়ে অন্তত সাড়ে তিনশ মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। হাসিনা সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা, নতুন সরকারের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা—এসব বাস্তবতা আছে। কিন্তু এগুলো মানুষের মধ্যে হঠাৎ করে এত তীব্র সহিংসতার আকাঙ্ক্ষা কেন তৈরি হলো, তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। এখানে মানুষ খুব দ্রুত জড়ো হয়, খুব দ্রুত সহিংসতা বাড়ে—আফ্রিকার জঙ্গলে দলছুট হরিণ দেখে শিকারির ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো। একই সঙ্গে দেখা যায়, মানুষ মোবাইল ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভিডিও করছে। এই সহিংসতার তীব্রতা, গতি ও আকস্মিক বিস্তার—এসব কি শুধু রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় ধরা যায়?
নীরব ঘাতক সীসা
সেই খোঁজ করতে গিয়েই আমেরিকার একটি গবেষণার দিকে চোখ যায়।
ষাট ও সত্তরের দশক ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধের স্বর্ণযুগ। পরে নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ করেই সেই অপরাধের হার কমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা নানা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনোটিই পুরোপুরি মিলছিল না। কারণ অপরাধের হার কমেছিল প্রায় পুরো দেশজুড়ে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নীতিমালা ছিল ভিন্ন। পুলিশি ব্যবস্থা, গণকারাবন্দি নীতি, গর্ভপাত বৈধকরণ—বিভিন্ন বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সময় বা ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে কোথাও না কোথাও ব্যাখ্যা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এরপর একুশ শতকের শুরুতে অর্থনীতিবিদ রিক নেভিন একটি চমকপ্রদ গবেষণা সামনে আনেন। তিনি দেখান, যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির ও হ্রাসের সঙ্গে গাড়ির জ্বালানিতে সীসা (Lead) ব্যবহারের একটি শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে—প্রায় ২২ বছরের ব্যবধানে- অর্থাৎ জ্বালানিতে সীসা ব্যবহারের ২২ বছর পর সহিংস অপরাধ বেড়েছে, আর সীসা বন্ধ করার ২২ বছর পর অপরাধ কমেছে। ২২ বছর—একজন মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার সময়। পরে তিনি আরও আটটি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং একই ধরনের ফল পান।
নিউরোলজি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায়। সীসা আমাদের শরীরের কাছে এক ধরনের ছদ্মবেশী ক্যালসিয়াম। এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ক্যালসিয়ামের কাছাকাছি হওয়ায় এটি বিকাশমান মস্তিষ্কে ক্যালসিয়ামের জায়গা দখল করে নেয় এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে ক্ষতি করে। অথচ এই অংশটিই আমাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র। সীসা-দূষণের শিকার শিশুরা হয়তো খুব দৃশ্যমান কোনো উপসর্গ দেখাবে না; কিন্তু তারা তুলনামূলক বেশি আবেগপ্রবণ, তাৎক্ষণিক তৃপ্তির প্রতি বেশি দুর্বল এবং কম আত্মনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই ক্ষতি বোঝা কঠিন, কিন্তু জনসংখ্যাগত পর্যায়ে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যেমনটি গবেষণায় দেখা গেছে।
এই আলোচনা পড়তে গিয়ে আমেরিকায় বড় হওয়া বাংলাদেশি শিশুদের কথা মনে পড়ে। তারা কি বাংলাদেশে বড় হলেও এতটা হাসিখুশি ও স্থির থাকত?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি কিছু ভয়াবহ পরিসংখ্যান পাই।
এমন উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি অপসারণের ফলে সীসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে, ছবি: সংগৃহীত ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সীসাজনিত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। ২০২৫ সালের এমআইসিএস জরিপ বলছে, দেশের ৩৮ শতাংশ শিশুর রক্তে ডব্লিউএইচও নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি সীসা রয়েছে—সংখ্যায় যা দুই কোটিরও বেশি। আবার ২০২২-২৪ সালে আইসিডিডিআরবি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ঢাকার ২-৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রত্যেকের শরীরেই সীসা রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ঢাকার প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ‘তাৎক্ষণিক মনোযোগ প্রয়োজন’ সীমার চেয়েও বেশি।
এই সীসা আসে কোথা থেকে?
সবচেয়ে বড় উৎস অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং। বাংলাদেশে ৩০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে। প্রতিটিতে পাঁচটি করে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি থাকে, যেগুলোর আয়ু মাত্র ৬ থেকে ১১ মাস। ব্যবহারের পর এসব ব্যাটারি সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজারো অনিয়ন্ত্রিত ভাটায় খোলা চুল্লিতে গলানো হয়। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ও Pure Earth-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব ভাটার অধিকাংশই আবাসিক এলাকায়। ফলে আশপাশের মাটি, পানি ও বাতাসে সীসার বিষাক্ত ধুলা ছড়িয়ে পড়ে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের শিল্পকারখানার এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা অন্যদের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।
দ্বিতীয় বড় উৎস রং বা পেইন্ট। বাংলাদেশে লেড পেইন্ট আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ পেইন্টে এখনো বিপজ্জনক মাত্রায় সীসা রয়েছে—অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার পিপিএম পর্যন্ত।
তৃতীয় উৎস আমাদের রান্নাঘর। বহু বছর ধরে কিছু ব্যবসায়ী হলুদকে উজ্জ্বল দেখাতে তাতে লেড ক্রোমেট মিশিয়ে আসছেন, কারণ বাজারে উজ্জ্বল হলুদকে ‘ভালো হলুদ’ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ সীসা আমাদের খাবারের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে।
তবে সীসাই একমাত্র বিষ নয়। হাজারীবাগের ট্যানারি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ক্রোমিয়ামের সংস্পর্শে রেখেছে। ঢাকার বাতাস প্রতি বছর ডব্লিউএইচও-র নির্দেশিকার বহু গুণ বেশি দূষিত থাকে। যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটার কয়লা, শিল্পকারখানার নির্গমন—সব মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এক ধরনের রাসায়নিক ককটেল শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ দশকের পর দশক আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করেছে। বিকাশমান মস্তিষ্ক এসবের বিরুদ্ধে খুব বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। একসঙ্গে একাধিক বিষের প্রভাব পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
আরও বড় এক বিষাক্ত বাস্তবতা
সীসা বাংলাদেশের দূষণ-সংকটের কেবল একটি উপাদান। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় এক বিষাক্ত বাস্তবতা।
এখন যদি আমেরিকার সেই ২২ বছরের সময় ব্যবধানের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাবি, তাহলে দেখা যায়—২০২৪-২৬ সালের গণপিটুনিতে জড়িতদের বড় অংশ জন্মেছে ২০০০ সালের শুরুর দিকে। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশে গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, ব্যাটারি রিসাইক্লিং ছড়িয়ে পড়ছিল, আর ঢাকার বাতাস-মাটি-পানি নানা রাসায়নিকে দূষিত হচ্ছিল। আজ যে বিষাক্ত উপাদানগুলো শিশুদের রক্তে পাওয়া যাচ্ছে, তার শেকড় সেই সময়েই তৈরি হচ্ছিল।
পরিবেশসম্মতভাবে রিসাইকেল না করে ব্যাটারি ফেলে দেয়া রাখা হচ্ছে যত্রতত্র, ছবি: সংগৃহীতবাংলাদেশের এই ‘মব জেনারেশন’-এর মস্তিষ্ক বহু নিউরোটক্সিনে আক্রান্ত। সামান্য উসকানিতেই তারা বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। বাংলাদেশের বাতাসে শ্বাস নিয়ে, এখানকার খাবার খেয়েই সবাই বড় হয়েছে। ফলে দল-মত নির্বিশেষে আমরা যেন একেকটি ‘টিকিং বম্ব’ হয়ে উঠছি।
তখন মনে প্রশ্ন জাগে—আমাদের সংস্কৃতির কতটা আসলে আমাদের রসায়নের ফল? রাজনীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ—যে জায়গাগুলোতে আমরা সব ব্যাখ্যা খুঁজি, তার পেছনে কতটা আছে শৈশব থেকে জমে থাকা বিষের প্রভাব? ভাটার পাশের মাটি, ট্যানারির বাতাস, টিউবওয়েলের পানি, দেয়ালের রঙের ধুলা—এসবের ফলাফলই হয়তো আমরা নৈতিকতার ভাষায় ব্যাখ্যা করছি। মানুষ বিষাক্ত পরিবেশে বড় হতে হতে মানসিকভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। আইকিউ কমছে, আত্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল হচ্ছে। ঘরে স্ত্রীকে মারছে, রাস্তায় উদ্বাস্তুদের পিটিয়ে হত্যা করছে। তাৎক্ষণিক তৃপ্তির নেশায় আক্রান্ত মানুষ নিজেদের আরও ধ্বংস করছে। আমরা এসবকে ‘অশিক্ষা, ‘অসভ্যতা’ বা ‘মৌলবাদ’ বলে ব্যাখ্যা করি, কিন্তু এর পেছনের জৈবিক ও পরিবেশগত কারণগুলো নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
আমাদের কী করার আছে
বাংলাদেশে এখনো তেমন কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ভাটা কমছে না, বরং বাড়ছে। হলুদে সীসা মেশানো নিয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও পেইন্টের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রয়োগ নেই। বায়ুদূষণও বছর বছর বাড়ছে। এই ক্ষতি একবার হয়ে গেলে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা যায় না; কেবল আগেভাগে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর সেই প্রতিরোধ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
ঢাকার বাতাস একদিনে বদলাবে না, ভাটাও এক রাতে বন্ধ হবে না। কিন্তু ছোট ছোট কিছু কাজ এখন থেকেই শুরু করা যায়। লেড পেইন্টের আইন কার্যকর করা যায়। আবাসিক এলাকার ভাটা সরিয়ে নেওয়া যায়। হলুদের বাজার নিয়মিত নজরদারিতে রাখা যায়। শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা যায়—যেমন আমরা ওজন বা উচ্চতা মাপি।
শুধু পরিবেশ নয়, শিশুদের সঙ্গে আমাদের আচরণও বদলানো জরুরি। আমাদের প্রজন্ম যেভাবে বড় হয়েছে—অকারণে চিৎকার, মারধর, ভয় দেখানো—এসবও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুরা যখন দেখে বড়রাই আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন তারাও শেখে না। তাই শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখানো এখনকার বাংলাদেশি প্যারেন্টিং সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে মব কালচারকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হিসেবে দেখাও বন্ধ করতে হবে। গণপিটুনির ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকও যে অপরাধের অংশ—এই বোধ তৈরি করতে হবে। কারণ যতদিন সহিংসতা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে, ততদিন বিষাক্ত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশও চলতেই থাকবে।
আমেরিকা তার সীসা-সংকট বুঝতে পেরেছিল ত্রিশ বছর পরে। আমাদের হাতে হয়তো এত সময় নেই। আজ যারা রাস্তায় সহিংসতায় জড়াচ্ছে, তাদের অনেকের মানসিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতি হয়তো ইতিমধ্যে স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু আজ যে শিশুটি ভাটার পাশে হামাগুড়ি দিচ্ছে, যে দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে, যে বিষাক্ত খাবার খাচ্ছে—তাদের এখনো রক্ষা করা সম্ভব।
কিন্তু তার আগে আমাদের স্বীকার করতে হবে যে তারা বিষাক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আর সম্ভবত সেটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
সাদমান ফাকিদ
গবেষক, প্রকৌশলী
মন্তব্য করুন

