দেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রায় ৬ কোটি শ্রমিক কাজ করে
অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ৬ কোটি শ্রমিক কার কাছে বিচার চাইবে?
আবু হেনা মুহিব
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১১:১১ এএম
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের অলিগলি ধরে ধীর প্যাডেলে রিক্সা চালান যুবুথুবু প্রায় এক অশিতিপর। কষ্ট কমাতে স্বল্প দূরত্বের ভাড়ার খোজে থাকেন তিনি। তাতেও হাপিয়ে ওঠেন। চরন যেন চলে না। এরকম চৈত দুপুরে দিন মান খর তাপে ঘেমে নেয়ে একাকার দশা। তবু হাল ছাড়েন না আলাউদ্দিন মিয়া। আরেকটা ভাড়া মানে বাড়তি কয়টা টাকা। এরকম হলে পরের দুই দিন আর মুন্সিগঞ্জের গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে হয় না। বয়সের সম্মানে অনেকে মায়া করেই তার রিক্সায় ওঠেন। সময় বাঁচাতে এড়িয়েও যান কেউ। আলা উদ্দিন এতে কিছু মনে করেন না। বাস্তবতা তার জানা আছে। রাজধানীর ব্যাস্ত মানুষের কাছে তার কদর অকারণ।
জানালেন, ভিক্ষা করলেও রিক্সা চালানোর চাইতে বেশি আয় করা যায়। কিন্তু যতক্ষণ পারেন কারো কাছে হাত পাততে চান না তিনি। বোঝা হতে চান না কারো। ছেলে মেয়েরা গার্মেন্টসে কাজ করে। মাঝে মাঝে হাত খরচ দেয়। কিন্তু তারা কত দেবে। তাদেরও তো সংসার আছে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে এখন আর তা হাতে ‘পাওয়ার’ নাই। বাধ্য হয়ে মহাজনের রিক্সা নিয়ে সপ্তায় তিন চার দিন আধা বেলা করে ঠান্ডায় ঠান্ডায় রিক্সা চালান। সন্ধ্যায় মুন্সি গঞ্জের গ্রামে ফিরে যান। দিন শেষে হাতে যা থাকে দিয়ে ঋণে কিস্তি পরিশোধ আগে। হাতে কিছু থাকলে খাওয়া, নইলে নাই। বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সময় কিছু ঋণ ছিল। সেই কিস্তির দায় নিয়েও এই বয়সে রিক্সা চালাতে হয়।
শ্রমজীবী মানুষের এরকম দিনাতিপাতের বাস্তবতায় আজ শুক্রবার মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়হীন অতিরিক্ত শ্রম ও কম মজুরিতে তীব্র শোষণের ফলে গড়ে ওঠা শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনের পটভূমিতে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম ও আট ঘণ্টা বিনোদন এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা সাত শ্রমিক নেতাকে মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত করা হয়। ১৮৯০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্যারিস কংগ্রেসে বিশ্বব্যাপী মে মাসের ১ তারিখ ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে। দিবস উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি। কিন্তু আলাউদ্দিনের মত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ৬ কোটি শ্রমিকের আজও ছুটি নেই। জীবিকার তাড়নায় অন্যদিনের মত আজও তারা রাস্তায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো–বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, দেশে কর্মে নিয়োজিতদের ৮৪ শতাংশই মশিউরদের মত কোন না কোন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজে করেন। সংখ্যায় এরা মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ। শ্রমিক হিসেবে যাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। এদের কোনো দায়দায়িত্ব নেয় না রাষ্ট্র । কোনো রকম আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নেই। কাজের ক্ষেত্রে অন্যায়ের শিকার হলে তাদের শ্রম আদালতে মামলা করার সুযোগ পর্যন্ত নেই। গত মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম সংশোধন বিলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিলুপ্ত শ্রম সংস্কার কমিশনপ্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, এবারের শ্রম আইন সংশোধনীতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশে শ্রম আইনে অন্য সব শ্রমিকের মতো একই অধিকার এবং সুযোগসুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা হিসেবে তাদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদা অফিস অথবা ডেস্ক স্থাপনের কথা বলা হয়েছে,– যাতে তারা অভিযোগ করতে পারে এবং প্রতিকার পায়। আইনে এগুলো কিছুই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এখন সব শ্রমিক যদি মজুরি বা যৌণ হয়রানি সংক্রান্ত কোন অন্যায়ের শিকার হন তাহলে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক কারা: আইএলওর আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদের সম্মেলন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব লেবার স্ট্যাটিসিয়ান্স–আইসিএলসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, বেসরকারি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা খানামালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যেগুলোর আইনি সত্তা নেই, পরিপূর্ণ হিসাব নেই, উৎপাদনের হিসাব দিতে হয় না এবং বেসরকারি ও অনিবন্ধিত–এরকম খাতকে অনানুষ্ঠানিক খাত এবং এ খাতের শ্রমিকদের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক বলা হয়। মূলত কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক বেশি। কৃষিতে ৯৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক। শিল্প খাতে ৮২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বড় অংশই গ্রামে থাকেন। বিবিএস বলছে, গ্রামের মোট শ্রমিকের ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। সংখ্যায় তারা ৪ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার। শহরের শ্রমিকদের এ হার কিছুটা কম। ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ। সংখ্যায় এক কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার। নারী শ্রমিকদের ৯৫ দশমিক ৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে থাকেন।
শ্রমিকের অদ্ভুত সংজ্ঞা: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–আইএলওর মানদণ্ড অনুযায়ী, শ্রমশক্তি বলতে ১৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে যারা কর্মে নিয়োজিত এবং বেকার জনগোষ্ঠীর সমষ্টিকে বোঝায়। যারা সাত দিনে কমপক্ষে ১ ঘণ্টার বেতন, মজুরি বা মুনাফার বিনিময় অথবা পরিবারের নিজস্ব ভোগের জন্য পণ্য উৎপাদনের কাজ করেছেন জরিপে তাদের কর্মে নিয়োজিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের বেলায়ও এই সংজ্ঞা গ্রহণ করেছে বিবিএস । আবার যারা কর্মক্ষম কিন্তু কোনো কাজে নিয়োজিত নন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ খুঁজে বেড়ান এবং ওই সময়ে কাজের সুযোগ পেলে সে কাজ করতে প্রস্তুত তাদের বেকার বলা হয়েছে। এ হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৪ লাখ ৬০ হাজার।
মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি বাড়ে : মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েন নিম্ন আয়ের সধারণ মানুষ। প্রতি মাসে শ্রমিকের মজুরি যে হারে বাড়ে তার চেয়ে বেশি হারে বাড়ে বাজারে জিনিসপত্রের দাম। এ কারণে শ্রমিকের মজুরি কখনো মূল্যস্ফীতির নাগাল পায় না। আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয়ের বাড়তি ব্যয় চলে ধার দেনায়। বিবিএসের সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সুচক (সিপিআই) ও মজুরি হার সূচক (ডব্লিউআরআই) প্রতিবেদনের উপাত্ত বলছে, গত মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশিমক শুন্য ৯ শতাংশ। অথচ মাসটিতে জাতীয় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। ৬৩টি ধরনের মজুরিকে অন্তর্ভুক করে সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য– উপাত্তের ভিত্তিতে মাসের এই মজুরি সূচক তৈরি করে থাকে বিবিএস। একই ভাবে সারা দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে পণ্যের দরের উপাত্তের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ১৪২ টি খাদ্যপণ্যের ২৪২ আইটেম ও ২৫৬টি খাদ্য বর্হিভূত পণ্যের ৫০৭টি আইটমের তথ্য সংগ্রহ করে মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়।
৩২ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের আয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম : বাংলাদেশের ৩২ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের আয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম । আর ৭ শতাংশ শ্রমিকের আয় আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে। চাকরির নিরাপত্তাহীনতার কারণে শ্রমিকদের এই নাজুক অবস্থা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রপ্তানি সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যেও সাব-কন্ট্রাক্টিং বা ঠিকা কাজ ও বাসাবাড়িভিত্তিক কাজের মাধ্যমে পোশাক খাতের কর্মসংস্থানের একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক রয়ে গেছে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৯২ শতাংশ শ্রমিকের চাকরির কোনো লিখিত চুক্তি নেই। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনএসকাপ) এক প্রতিবেদনে এরকম আতকে ওঠার মত তথ্য–উপাত্ত উঠে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংস্থার বিভিন্ন দেশের পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং এর অভিঘাতের কথা তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ ও বিভাজনের বাস্তবতা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে সুদূরপ্রসারী আর্থসামাজিক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে ইউএনএসকাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক-পরবর্তী খুচরা মূল্যবৃদ্ধি যাতে এড়ানো যায়, সেই কৌশল হিসেবে রপ্তানিকারকরা তাদের মুনাফার মার্জিন না কমিয়ে শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধা কমাবেম–যা কর্মসংস্থান প্রভাব ফেলবে,। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য বাড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট সবচেয়ে ঝুঁকিতে শ্রমজীবীরা : মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যে গত বছর এপ্রিলে যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে তার জেরে সবচেয়ে ঝুকিতে পড়েছে শ্রমিকজীবীরা। গত দুই মাস আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইয়েলের যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা শ্রমজীবী মানুষের পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলেছে। ইউএনএসকাপ প্রতিবেদনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি এবং ক্রমাগত রপ্তানি চাহিদা কমে গেলে তা শ্রম খাতে প্রভাব ফেলবে। সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে পড়বে অনানুষ্ঠানিক এবং সাব-কন্ট্রাক্টে ঠিকা কাজের শ্রমিকরা। কারণ, এ ধরনের কাজে চাকরির নিরাপত্তা থাকে না। সাধারণত যে কোনো পরিস্থিতিতে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের শ্রমিকরাই প্রথম শিকার হয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক-পরবর্তী খুচরা মূল্যবৃদ্ধি যাতে এড়ানো যায়, সেই কৌশল হিসেবে রপ্তানিকারকরা তাদের মুনাফার মার্জিন না কমিয়ে শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধা কমাবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে থেকে যেতে পারে আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থার এক প্রতিবেদেন বলা হয়, বাংলাদেশে গত তিন বছরে দারিদ্র্য বিমোচন ও জনকল্যাণ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, শ্রমিকদের আয়ের দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি– যা প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রভাবকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
কাজ হারিয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার পোশাক শ্রমিক: তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও বহু কারখানা বর্তমানে আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব কারখানায় গড়ে দুই হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এ হিসেবে বেকার হয়েছে অন্তত ৮ লাখ শ্রমিক। বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা কোথায় গেল জানতে চাইল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল সমকালকে বলেন, বেকার শ্রমিকরা কোথায় গেল সেটা তারা ট্র্যাকিং করতে পারেননি। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উপযুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাবার কারণে কিছুটা সংকটে আছে শিল্প। বিজিএমইএ সুত্রে জানা গেছে, কারখানা বন্ধ যেমন হয়েছে আবার গত তিন বছরে ২৬৯ টি নতুন কারখানা পোশাক উৎপাদনে এসেছে। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের অনেকেই নতুন কারখানায় কাজ পেয়েছেন। সে হিসেবে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারের মত হতে পারে।
৫৫ প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও ন্যূনতম মজুরি নেই: অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো নয়। এখনও অনেক শিল্প খাতকে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর আওতায় আনা হয়নি। মালিকপক্ষ যা দেয়, তা মেনে নিয়ে কাজ করেন শ্রমিকরা। এরকম অন্তত ৫৫টি খাতে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়নি। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্বীকৃত শিল্প আছে ১০২টি। এর মধ্যে সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি আছে মাত্র ৪৭টি শিল্পে। জানতে চাইলে সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে দুটি শিল্পকে ন্যূনতম মজুরির আওতায় আনা হবে। আরও ২০ শিল্পকে এর আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সর্বশেষ পেট্রোল পাম্প শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে গত মার্চে। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ীম পেট্রোল পাম্পের এক জন শিক্ষানবিশ শ্রমিকের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা।
মন্তব্য করুন

