Logo

১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

হান্টাভাইরাস আতঙ্কে সমুদ্রে বন্দি ‘এমভি হন্দিয়াস’

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফের কাছে নোঙর করেছে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত জাহাজটি

দশদিগন্ত

হান্টাভাইরাস আতঙ্কে সমুদ্রে বন্দি ‘এমভি হন্দিয়াস’

মৃত্যু, কোয়ারেন্টাইন ও আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান

Icon

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ডাচ প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’ এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে। অ্যান্টার্কটিকা ঘুরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের দিকে যাত্রাকালে জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের আতঙ্ক, বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফের কাছে নোঙর করে জাহাজটি। সেখানে চলছে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান।

এখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জাহাজটিতে থাকা শতাধিক যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে ধাপে ধাপে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউরোপীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

‘এমভি হন্দিয়াস’-এর যাত্রা?

‘এমভি হন্দিয়াস’ হলো ডাচ ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত বিলাসবহুল প্রমোদতরী। মূলত অ্যান্টার্কটিকা ও দূরবর্তী সমুদ্রপথে অভিযাত্রী ভ্রমণের জন্য পরিচিত এই জাহাজটি চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে।

প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে যাত্রা করা জাহাজটির গন্তব্য ছিল স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ। মাঝপথে অ্যান্টার্কটিকা এবং আরও কয়েকটি এলাকায় যাত্রাবিরতি দেয় এটি। পরে কেপ ভার্দে জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য সামনে আসে।

কীভাবে আসে সংক্রমণের খবর

প্রথমে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মধ্যে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একে একে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্রু সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

হান্টাভাইরাস কী?

হান্টাভাইরাস হলো— সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এক ধরণের ভাইরাস। আক্রান্ত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুকিয়ে যাওয়া বর্জ্য বাতাসে মিশে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণ ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাধারণ ভাইরাস নয়। সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে প্রথমে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে রূপ নিতে পারে।

এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে যে ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’-এর কথা বলা হচ্ছে, সেটি তুলনামূলক বিরল। দক্ষিণ আমেরিকায় এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে সীমিত আকারে হলেও, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটার ঘটনাও আগে দেখা গেছে।

কোথা থেকে ছড়ালো ভাইরাস?

তদন্তকারীদের ধারণা, আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলের একটি ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে সংক্রমণের সূত্রপাত হতে পারে। পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছে জনপ্রিয় ওই এলাকায় ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সম্ভবত সেখান থেকেই ভাইরাসটি জাহাজে প্রবেশ করে। এরপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় সীমিত পরিসরে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনও তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্তভাবে উৎস নিশ্চিত করা হয়নি।

তেনেরিফে পৌঁছানোর পর যা ঘটল

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর রবিবার ভোরে ‘এমভি হন্দিয়াস’ স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের গ্রানাদিলা বন্দরের কাছে পৌঁছে। তবে জাহাজটিকে সরাসরি বন্দরে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং জাহাজটির চারপাশে এক নটিক্যাল মাইলের একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সামরিক পুলিশের নৌযান টহল দিতে থাকে। উপকূলে গড়ে তোলা হয় বিশাল জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প।

স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে একটি মেডিকেল টিম জাহাজে ওঠে। তারা যাত্রী ও ক্রুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে। কারও মধ্যে নতুন করে উপসর্গ আছে কিনা, তা যাচাই করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের ভয়াবহ প্রস্তুতি

উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতামূলক, ধীর এবং জটিল। জাহাজে থাকা যাত্রীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে ধাপে ধাপে নামানো হয়। দেশ অনুযায়ী আলাদা তালিকা তৈরি করে তাদের ছোট নৌকায় করে উপকূলে আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের বিভিন্ন ফুটেজে দেখা যায়, যাত্রীরা সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে জাহাজের ডেকে কিংবা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যদিকে উদ্ধারকর্মীরা ছিলেন পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক বা হ্যাজম্যাট স্যুটে। যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছিল। উপকূলে পৌঁছানোর পর তাদের জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। বিমানে ওঠার আগেও যাত্রীদের শরীর ও পোশাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছিল।

সবচেয়ে আগে ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের মাদ্রিদে পাঠিয়ে একটি সামরিক হাসপাতালে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ডাচ, গ্রিক, জার্মান, বেলজিয়ান, আইরিশ, তুর্কি, মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। সবশেষে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ফ্লাইট ছাড়ার কথা রয়েছে।

কেন এত ভয়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস দীর্ঘ দিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। কারও শরীরে ভাইরাস ঢোকার পর অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, কেউ উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাস বহন করতে পারেন। এ কারণেই যাত্রীদের দীর্ঘ সময় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪২ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। আবার কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভাইরাসটির সুপ্তাবস্থা নয় সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

হাসপাতালগুলো কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে?

সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেনেরিফের ক্যান্ডেলারিয়া হাসপাতালকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। জাহাজ থেকে কাউকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আনা হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। সেখানে বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে, যাতে সংক্রমিত রোগীদের অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া যায়।

হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর, পরীক্ষার কিট এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলার বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিপুল পরিমাণ সুরক্ষা পোশাক, মাস্ক ও গ্লাভস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মার মার্টিন জানিয়েছেন, তারা আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তবে যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় তাদের টিম পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

স্থানীয়দের আতঙ্ক ও ক্ষোভ

জাহাজটি তেনেরিফে আনা হবে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভাইরাসটি দ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুক্রবার বন্দর শ্রমিকদের একটি দল স্থানীয় পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভও করে।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিজো প্রথমে জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সংক্রমিত কোনো ইঁদুর জাহাজ থেকে নেমে গেলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। পরে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, এমন ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

কোভিডের স্মৃতি আবার ফিরে এলো

পুরো ঘটনাটি অনেকের মধ্যেই কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। মাস্ক, হ্যাজম্যাট স্যুট, আইসোলেশন, চার্টার্ড ফ্লাইট—সবকিছুই যেন আবার কয়েক বছর আগের পৃথিবীর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিক। কারণ কোভিডের ট্রমা এখনও আমাদের মনে রয়েছে।’ তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কম।

যাত্রীদের সামনে এখন কী?

জাহাজ থেকে নামতে পারলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।

তাদের অনেককে সামরিক হাসপাতাল বা বিশেষ আইসোলেশন সেন্টারে থাকতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আলাদা চিকিৎসা দেওয়া হবে।

কিছু যাত্রীকে নিজ নিজ দেশে গিয়ে ‘সেলফ-আইসোলেশন’-এ থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজেই থেকে যাবেন। তারা জাহাজটিকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ করবেন।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এমভি হন্দিয়াস’-এর ঘটনাটি শুধু একটি প্রমোদতরীতে সীমাবদ্ধ স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, হান্টাভাইরাসের এই স্ট্রেইনটি তুলনামূলক বিরল এবং এর সংক্রমণ পদ্ধতি নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না বলেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে জাহাজটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উপস্থিতি এবং দীর্ঘ সময়ের সমুদ্রযাত্রা। কয়েক সপ্তাহ ধরে একই পরিবেশে অবস্থান করায় যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে একটি দেশের পক্ষে এককভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, সংক্রমণ শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

আতঙ্ক নয়, সতর্কতার আহ্বান

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া বারবার বলেছেন, আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়।

তার ভাষায়,“ভুল তথ্য ও অযথা আতঙ্ক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, হান্টাভাইরাস অত্যন্ত গুরুতর হলেও এটি সহজে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস নয়। খুব কাছাকাছি সংস্পর্শ বা নির্দিষ্ট পরিবেশ ছাড়া সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

তবে যেহেতু এই ঘটনার সঙ্গে বিরল ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ জড়িত, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে সর্বোচ্চ মাত্রায়।


সামনে তিনটি লক্ষ্য:

বর্তমানে বিশ্ব তাকিয়ে আছে তিনটি বিষয়ের দিকে—

এক. নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত হন কিনা

দুই. কোয়ারেন্টাইনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয় কিনা

এবং তিন. মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা

যদি নতুন সংক্রমণ না বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—বিশ্বায়নের যুগে একটি দূরবর্তী সমুদ্রযাত্রার সংকটও মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হতে পারে।

‘এমভি হন্দিয়াস’-এর যাত্রীরা এখন শুধু সমুদ্রযাত্রার নয়, বরং এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার সাক্ষী। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাদের ভ্রমণ ছিল অভিযানের আনন্দে ভরা, তাদের অনেকের জীবন এখন কোয়ারেন্টাইন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আতঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর বিশ্ব দেখছে—একটি অদৃশ্য ভাইরাস কীভাবে আবারও মানবসভ্যতাকে সতর্ক করে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Logo